Read Time:6 Minute, 51 Second

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ও এফ-১ অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) প্রোগ্রাম লক্ষ্য করে নতুন ফি আরোপের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবারের (২৪ আগস্ট) ফেডারেল রেজিস্টারের পোস্ট অনুযায়ী, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়িয়ে এক লাখ তিন হাজার ২৬৫ ডলার করার প্রস্তাবিত প্রবিধান প্রকাশ করেছে। গত বছর এই ফি আরোপ করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আদালতের আদেশে স্থগিত হয়। খবর রয়টার্সের।

করপোরেট ইমিগ্রেশন সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রাগোমেন জানিয়েছে, এই প্রস্তাবিত প্রবিধান বাস্তবায়িত হলে বিদেশি নাগরিক, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে যাওয়া শিক্ষার্থী এবং এইচ-১ কর্মী স্পন্সর করা নিয়োগকর্তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার খরচ বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

ইমিগ্রেশন আইন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফ্রাগোমেন এক নোটে জানিয়েছে, প্রস্তাবগুলো ইতোমধ্যে হোয়াইট হাউসের অফিস অফ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি)-এর অনুমোদন প্রক্রিয়া অতিক্রম করেছে।

নোটে আরও বলা হয়, গত ২০ আগস্ট ওএমবি-তে ওপিটি ফি সংক্রান্ত প্রস্তাবিত একটি নিয়ম পাঠানো হয়েছিল, বর্তমানে তা পর্যালোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে কিছু নির্দিষ্ট এইচ-১বি আবেদনের ওপর ফি আরোপের প্রস্তাবিত নিয়ম ১৯ আগস্ট ওএমবি-তে পৌঁছায়, একই দিনে তা পর্যালোচনা শেষে ছাড়পত্র পায়।

ফ্রাগোমেন উল্লেখ করেছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ওপিটি আবেদনের ওপর এক লাখ ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব করতে পারে। এছাড়া প্রস্তাবিত এইচ-১বি ফি প্রশাসনিকভাবে আগে থেকে আটকে থাকা এক লাখ ডলারের এইচ-১বি আবেদনের ফি সংক্রান্ত চলমান মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

তবে এই প্রস্তাবের বিষয়বস্তুগুলো এখনও গোপনীয় রয়েছে ও পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রকাশ করা হবে।

এই সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে বিপাকে পড়বেন ভারতীয়রা, কারণ মোট এইচ-১বি ভিসা সুবিধাভোগীদের ৭০ শতাংশেরই বেশি ভারতীয়। ২০২৪ সালে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস তিন লাখ ৯৯ হাজার ৪০২টি এইচ-১বি আবেদন অনুমোদন করে, যার মধ্যে ৭১ শতাংশ ছিল ভারতে জন্মগ্রহণকারী সুবিধাভোগী।

চাকরি হারানোর পর দেশ ছাড়তে ৬০ দিন সময় পাবেন না এইচ-১বি কর্মীরা

নতুন ফি ছাড়াও চলতি মাসের শুরুর দিকে ডিএইচএস চাকরিহীন এইচ-১বি কর্মীদের জন্য থাকা ৬০ দিনের ‘গ্রেড পিরিয়ড’ বা রেয়াতি সময়সীমা বাতিল করার প্রস্তাব করেছে। এই নিয়ম চূড়ান্ত হলে চাকরি হারানোর পর কোনো সময় না পেয়ে এসব কর্মীকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে, অন্যথায় তা ভিসা শর্তের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মী ও তাদের ওপর নির্ভরশীলদের প্রায় সঙ্গে সঙ্গে দেশ ছাড়তে হবে।

প্রবিধানটি চূড়ান্ত হলে, অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কোনো কর্মীর চাকরি চলে গেলে কর্মী ও তার পরিবারের সদস্যাদের জন্য বর্তমানে বহাল থাকা ৬০ দিনের রেয়াতি সুবিধাটি আর থাকবে না।

মার্কিন আদমশুমারির সাম্প্রতিক তথ্যভিত্তিক অনুমান অনুযায়ী, বর্তমানে ৫২ লাখেরও বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

ভিসা প্রোগ্রাম নিয়ে বিতর্ক

ট্রাম্প ও প্রোগ্রামটির সমালোচকদের দাবি, কম খরচে বিদেশি শ্রমিক এনে স্থানীয় নাগরিকদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো বলছে, দক্ষ মার্কিন কর্মীর ঘাটতি মেটাতে ও বৈশ্বিক মেধা আকৃষ্ট করতে এই ভিসা অপরিহার্য।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭০ জন নিয়োগকর্তা ৮৫টি আবেদনের বিপরীতে এই ১ লাখ ডলার ফি পরিশোধ করেছেন।

বাড়ছে আইনি চ্যালেঞ্জ

এদিকে ইউএস চেম্বার অফ কমার্স, ডেমোক্রেটিক-শাসিত অঙ্গরাজ্য ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর যৌথ আইনি লড়াই অব্যাহত রয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া বাণিজ্য খাতে এমন কর বা রাজস্ব আদায়ের কোনো আইনগত সুযোগ ট্রাম্পের প্রশাসনের নেই। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে সাধারণ কর নয় বলে দাবি করে আসছে।

ট্রাম্পের কড়া অভিবাসন নীতির কারণে ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে এইচ-১বি আবেদন ২৫ শতাংশের বেশি কমে তিন লাখ ৪৪ হাজারে নেমে এসেছে, যা ২০২৩ সালের (৭ লাখ ৯৪ হাজার) তুলনায় অর্ধেকেরও কম। এছাড়া সম্প্রতি আবেদনের কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি অন্য দেশ থেকে কর্মী স্থানান্তরে অতিরিক্ত চার হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত আলাদা ফি যোগ করেছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post তারেক রহমানের কোনো পরিকল্পনা নেই, ৬ মাসে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম
Close