Read Time:4 Minute, 43 Second

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। একই সময়ে বিদেশিদের ভিসা যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করার পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন ও অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ জোরদার করেছে মার্কিন প্রশাসন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তা বলেন, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া, যুক্তরাষ্ট্র বা মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় আহ্বান জানানো, প্রতারণা, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা—এসব কারণে ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দায়িত্বকালে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তার ভাষায়, এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক এবং মার্কিন জনগণকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

পিগট আরও বলেন, ভিসাসংক্রান্ত প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত। তিনি বলেন, মার্কিন ভিসা কোনো অধিকার নয়, বরং একটি সুযোগ। কমিউনিটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে—এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই অব্যাহত রাখবে।

বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে ২ হাজার ৩০০টি ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। অর্থাৎ, কিছু বিদেশি গর্ভবতী নারী সন্তান জন্মের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন, যাতে সন্তান সেখানে জন্ম নিলে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

এ ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগের কারণে বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও পেরুর ২৭ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের ভিসাও বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

চলতি গ্রীষ্মে প্রায় ২ লাখ বিদেশির বি-১ ও বি-২ ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা বাতিলের প্রস্তুতিও শুরু করে মার্কিন প্রশাসন। এসব ব্যক্তির অনেকে পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন।

মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেন, আমেরিকানরা ভুয়া আশ্রয়ের আবেদনে বিরক্ত। তার মতে, এ ধরনের আবেদন আইনের ফাঁকফোকরের অপব্যবহার করে এবং বিচারব্যবস্থায় মামলার চাপ বাড়িয়ে দেয়।

এর আগে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছিল। ওই সময় হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধসহ বিভিন্ন ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হয়।

মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করার মূল উদ্দেশ্য হলো জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকানো।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসা পেতে সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি; বাড়তে পারে কড়াকড়ি
Next post ডিসেম্বরে অস্থিরতা তৈরির সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Close