Read Time:4 Minute, 25 Second

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে জোটের বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আন্দোলন আরও জোরালো করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

মমতার বক্তব্যের সময় তার পাশে ছিলেন কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। বক্তব্য শেষে সোনিয়া মমতার পিঠে হাত রাখেন। পরে দুজনকে হাত মেলাতেও দেখা যায়। বিরোধী জোটের নেতাদের উপস্থিতিতে এ বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

মমতা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনী অনিয়ম হয়েছে এবং ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। তার দাবি, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভোট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তারা আগেও নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলেছেন।

নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য নিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে মতবিনিময় বা মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়।

মমতা বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও তারা সমাধান পাননি। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান তিনি। নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে কারচুপির অভিযোগও তোলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। এসব অভিযোগ অবশ্য বিরোধীদের রাজনৈতিক দাবি হিসেবে সামনে এসেছে; নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক থেকে একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিল ও জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

আগামী ৬ অক্টোবর বিরোধী দলের সাংসদরা দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর পর্যন্ত মিছিল করবেন। এ কর্মসূচিতে সব বিরোধী সাংসদকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিরোধী নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, আন্দোলনে তরুণ, বিভিন্ন সংগঠন ও ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post ব্যাংক হিসাব তলব নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানালেন সালমান মুক্তাদির
Close