Read Time:5 Minute, 14 Second

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে শুরু হয়েছে ১৩তম বিশ্ব নগর ফোরামের ত্রয়োদশ অধিবেশন। ১৭ থেকে ২২ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এ বৈশ্বিক আয়োজন গতকাল সোমবার উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন জাতিসংঘ মানব বসতি কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক আনাক্লাউদিয়া রসব্যাক।

উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত হয় নতুন নগর এজেন্ডা বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফেরদৌসী বেগমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ অধিবেশনে অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আব্দুল আউয়াল, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি মো. আসিফুর রহমান ভূঁইয়া।

মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়াসহ ৫৫টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিস্থাপক ও মানবকেন্দ্রিক নগর গড়ে তোলার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

২০১৬ সালে বিশ্বনেতাদের গৃহীত নতুন নগর এজেন্ডা বিশ্বব্যাপী নগর রূপান্তরের ভবিষ্যৎ নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল জানায়, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পিত নগরায়ন, সাশ্রয়ী আবাসন এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আঞ্চলিক উন্নয়ন :

মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ নতুন প্রণীত স্থানিক পরিকল্পনা আইনের গুরুত্ব তুলে ধরে। প্রতিনিধিদল জানায়, সারাদেশে পরিকল্পিত নগর বৃদ্ধি এবং জনসংখ্যা ও সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

এ সময় পূর্বাচল নতুন শহর, ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প এবং উত্তরা তৃতীয় পর্বের মতো বৃহৎ উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরা হয়।

এসব প্রকল্প ঢাকার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি আধুনিক ও সুপরিকল্পিত নগর এলাকা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসন :

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল জানায়, ‘সবার জন্য আবাসন’ দেশের নগর উন্নয়ন নীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। টঙ্গী দত্তপাড়া, কড়াইলসহ বস্তি উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিতে ফ্লোর এরিয়া অনুপাতভিত্তিক প্রণোদনা কার্যক্রমের বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

জলবায়ু সহনশীলতা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ :

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি আবাসন কর্মসূচি, স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো এবং টেকসই নির্মাণে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

একই সঙ্গে বাসযোগ্যতা, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের অন্যতম উদ্যোগ হিসেবে ‘পুরান ঢাকা পুনরুজ্জীবন প্রকল্প’ উপস্থাপন করা হয়।

বৈশ্বিক অংশীদারির প্রতি কৃতজ্ঞতা :

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল কক্সবাজারে ভূমির অবক্ষয় রোধসহ অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসন, নগর স্থিতিস্থাপকতা ও টেকসই নগর উন্নয়ন কার্যক্রমে ইউএন-হ্যাবিট্যাট, বিশ্বব্যাংক, ইউএনওপিএস, এবং ইউএনইএসক্যাপ-এর ধারাবাহিক সহায়তার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মানব বসতি কর্মসূচির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক কার্যালয় এবং বাংলাদেশ কার্যালয় এ অঞ্চলে টেকসই নগর উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে ইউএনইপি এবং ইউএনওপিএস সহায়তা প্রদান করছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post বাংলাদেশে ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা
Next post নারী এমপিদের প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
Close