Read Time:5 Minute, 4 Second

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই-আগস্টে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে দেশ গঠনে হাত দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত—এই ৪০ কোটি হাত যদি নেমে আসে, ৪০ কোটি হাত যদি একসঙ্গে কাজ করা ধরে, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা পৃথিবীর বুকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হবো।’

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনর্খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই এলাকার সাতটা তাজা প্রাণ ঝরে গিয়েছিল স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে। কেন ঝরে গিয়েছিল? সেই সাতটা তাজা প্রাণের দাবি ছিল বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা। বিএনপিরই সাতটা প্রাণ ঝরে গিয়েছে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে।

এইভাবে সারা বাংলাদেশে শুধু বিএনপিরই শত শত নেতাকর্মী তাদের জীবন আত্মাহুতি দিয়েছেন। শুধু জুলাই-আগস্ট মাসেই আমাদের সারা বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে চার শর মতো নেতাকর্মী সেদিন খুন হয়েছিল।
শহীদদের স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, তাদের স্বপ্ন যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তাদের মৃত্যুকে যদি মূল্যায়ন করতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে আজ দেশ গঠন বা রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে হাত দিতে হবে।

‘খোর্দ্দ খাল’ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৪৮ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করে গিয়েছিলেন।

তারপর সময়ের পরিক্রমায় খালটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই খাল শহীদ জিয়া যখন খনন করেছিলেন, তার ফলে এই এলাকার কৃষক ভাইদের সুবিধা হয়েছিল। প্রায় ২০০০ কৃষক পরিবারের সুবিধা পেয়েছে। ১৩ কিলোমিটার লম্বা খালের সুবিধা বহু মানুষ পাবে, শুধু কৃষক ভাইয়েরা না, খালের দুই পাশে যারা থাকে তারাও পানির সুবিধা পাবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বাংলাদেশের মাটি এত উর্বর করে দিয়েছেন যে, আমরা যদি সময়মতো পানি দিতে পারি তাহলে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে এখানে ফসল ফলে।

ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতিও আমরা নির্বাচনের আগে এই দেশের মানুষের কাছে দিয়েছিলাম। সেই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা আড়াই হাজার টাকা প্রতি মাসে আমরা মায়েদের হাতে তুলে দেব। যাতে করে সেই মায়েরা শিশুদের লেখাপড়া বলেন, স্বাস্থ্য বলেন, সবকিছু ঠিকভাবে যত্ন নিতে পারে। ধীরে ধীরে যাতে মায়েরা ছোট ছোট ব্যবসা-বাণিজ্য করার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে গড়ে উঠতে পারে। কারণ মা যদি শিক্ষিত হয়, তবে পরিবার শিক্ষিত হয়। মা যদি স্বাবলম্বী হয়, একই সঙ্গে পরিবারের সব সদস্য ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়।

বরাদ্দ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যেই বাজেট চলছে এটি তো বিএনপি সরকারের বাজেট না। এটি বিএনপি সরকারের আগে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল তাদের করে যাওয়া বাজেট। সেই বাজেটের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের কোনো টাকা দেওয়া ছিল না। সেই বাজেটের মধ্যে কৃষক কার্ডের জন্য কোনো টাকা দেওয়া ছিল না। সেজন্য ইনশাআল্লাহ এবার আপনাদের বিএনপি সরকার বাজেট তৈরি করছে এবং সেই বাজেটের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে, কৃষক কার্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে কৃষক ভাইদের জন্য।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক সই
Next post বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য দেবেন না: পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ফখরুল
Close