Read Time:6 Minute, 16 Second

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি মন্ত্রিসভায় নতুন যোগ দেওয়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বরং এ নিয়ে সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদেরই পাল্টা প্রশ্ন করেছেন তিনি। একপর্যায়ে জানতে চেয়েছেন, ‘কার এত জ্বালা যে কাজ করতে দেবে না?’

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এক সাংবাদিক বলেন, হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তিনি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে তার বক্তব্য প্রয়োজন।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি বাংলাদেশি এবং দেশের প্রতি তার অবস্থান নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকার কথা নয়। তবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছেড়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি তিনি।

পরে এক সাংবাদিক জানতে চান, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সাংবিধানিক বাধা আছে কি না। এ সময় হুমায়ুন কবির জানতে চান, বিষয়টি কে সংবাদ করেছে। সাংবাদিকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কথা জানালে তিনি বলেন, ‘আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, আপনি বলেন নেটিজেন!’

কোন সংবাদপত্র এ নিয়ে খবর করেছে, তা-ও জানতে চান তিনি। একপর্যায়ে প্রশ্ন করেন, ‘কার এত জ্বালা যে কাজ করতে দেবে না?’

এ সময় ২০০৮ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘তার কি ২০০৮-এর জ্বালা উঠছে নাকি আবার? মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের জ্বালা উঠছে তার আবার?’

তবে এত কথার পরও সাংবাদিকদের মূল প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্বের অধিকারী কিনা কিংবা তা ত্যাগ করে থাকলে কবে করেছেন, কোনোটিই পরিষ্কার করেননি।

হুমায়ুন কবির গত শুক্রবার টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। নতুন পাঁচ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী শপথ নেওয়ার সময় তাকেও মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

হুমায়ুন কবিরের বেড়ে ওঠার বড় অংশ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। দেশটির লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। যুক্তরাজ্য বিএনপির একাধিক নেতা তাঁকে ব্রিটিশ নাগরিক বলে দাবি করেছেন। তবে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে তারাও নিশ্চিত নন।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোও জানিয়েছে, তার নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদনের বিষয়ে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

এ কারণেই মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংবাদ হয়েছে।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্বের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সংসদ সদস্য না হয়েও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হওয়া যায়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হয়।

ফলে হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্বের অবস্থান পরিষ্কার করা কেবল রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়, তাঁর মন্ত্রিত্বের সাংবিধানিক যোগ্যতার প্রশ্নের সঙ্গেও সম্পর্কিত। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি তথ্য দেওয়ার বদলে প্রশ্নটি কে তুলেছেন বা কেন তুলেছেন তা নিয়ে ক্ষোভ দেখিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি হওয়া মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন হুমায়ুন কবির।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ চুক্তিটির বিষয়ে আগ্রহী এবং বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ছে।

মক্কার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের আবেগের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কোনো নিরাপত্তা চুক্তি হলে বাংলাদেশ সেখানে যুক্ত হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়। আমরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছি।’

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post হাসনাত আব্দুল্লাহর দৃষ্টিতে বিএনপি সরকারের ৬ মাস
Next post তারেক রহমানের কোনো পরিকল্পনা নেই, ৬ মাসে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম
Close