Read Time:5 Minute, 44 Second

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজারকে আরও গতিশীল, দক্ষ এবং প্রতিযোগিতামূলক করতে ওয়ার্ক পারমিট বা কর্মসংস্থান অনুমতি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার এনেছে দেশটির মানবসম্পদ ও আমিরাতিয়াকরণ মন্ত্রণালয়।

সরকারি আমলাতান্ত্রিকতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া ‘জিরো গভর্নমেন্ট ব্যুরোক্রেসি প্রোগ্রাম’-এর আওতায় এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আধুনিকায়নের ফলে এখন থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে, কোনো ধরনের সহায়ক নথিপত্র (সাপোর্টিং ডকুমেন্ট) ছাড়াই শতভাগ কাগজবিহীন উপায়ে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করা যাবে। এছাড়া কিছু নির্দিষ্ট পারমিটের ক্ষেত্রে তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা ৭৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হয়েছে, যা কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াকে অভূতপূর্বভাবে দ্রুততর করবে।

এই নতুন সংস্কারের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় বর্তমানে প্রচলিত ওয়ার্ক পারমিট সেবার কার্যকারিতা যাচাই এবং প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ করতে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত একটি ইলেকট্রনিক গণপরামর্শ (অনলাইন কনসালটেশন) কার্যক্রম চালু করেছে। এর মাধ্যমে সাধারণ জনগণ ও সেবাগ্রহীতারা তাদের মতামত এবং পরামর্শ দিতে পারবেন।

ডিজিটাল সেবাকে আরও সহজলভ্য করতে মন্ত্রণালয় তাদের একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যার মাধ্যমে নিয়োগকর্তা ও কর্মীরা ঘরে বসেই অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে সব ধরনের আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। এই উদ্যোগটি একদিকে যেমন বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নতুন এই নীতিমালার অধীনে মন্ত্রণালয় বিভিন্ন খাতের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে মোট ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতিপত্র ইস্যু করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো দুই বছর মেয়াদি ‘বাহিরাগত কর্মী নিয়োগ পারমিট’, যার মাধ্যমে দেশটির বাইরের দেশ থেকে নতুন কর্মী আনা যাবে।

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভেতরেই এক চাকরি থেকে অন্য চাকরিতে স্থানান্তরের জন্য রয়েছে দুই বছর মেয়াদি ‘ট্রান্সফার ওয়ার্ক পারমিট’। পারিবারিক স্পনসরের অধীনে থাকা অভিবাসীদের কাজের সুযোগ দিতে রয়েছে ‘ফ্যামিলি স্পনসরড পারমিট’ এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের জরুরি কাজের জন্য ‘মিশন ওয়ার্ক পারমিট’ ও সাময়িক কাজের জন্য ‘টেম্পোরারি ওয়ার্ক পারমিট’ চালু করা হয়েছে।

আধুনিক কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণে ফ্রিল্যান্সার এবং খণ্ডকালীন কর্মীদের জন্যও বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। নতুন নিয়মে কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকেও স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য দেওয়া হচ্ছে ‘ফ্রিল্যান্স ওয়ার্ক পারমিট’। পাশাপাশি প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের দক্ষ কর্মীরা মূল নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই একাধিক প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন ‘পার্ট-টাইম ওয়ার্ক পারমিট’-এর মাধ্যমে। এছাড়াও শিক্ষকতা পেশার জন্য ‘প্রাইভেট টিউটরিং পারমিট’ এবং গোল্ডেন ভিসা ধারীদের জন্য বিশেষ পারমিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থানে যুক্ত করতেও বিশেষ পারমিটের ব্যবস্থা রেখেছে মন্ত্রণালয়। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে ‘জুভেনাইল ওয়ার্ক পারমিট’ এবং ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য ‘স্টুডেন্ট ট্রেইনিং অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট পারমিট’ দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জিসিসি ভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ কর্মসংস্থান পারমিটের পাশাপাশি স্থানীয় আমিরাতি গ্র্যাজুয়েটদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে বিশেষ ‘ট্রেইনি ওয়ার্ক পারমিট’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post প্রবাসীদের জন্য সংসদীয় টাস্কফোর্সের প্রস্তাব বিরোধীদলের
Next post বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় প্রথমবার ৩ হাজার ডলার ছাড়ালো
Close