Read Time:4 Minute, 15 Second

বাজেটের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইফ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমাদের বড় সমালোচনার জায়গাটা হচ্ছে এই বাজেটটাকে আমাদের মনে হয়েছে উচ্চ এবং বাস্তবতা বিবর্জিত। এটা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট হবে। ঋণগ্রস্ত বাজেট বলা যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে সংসদ ভবনের জেনারেল এম এ জি ওসমানী গেটের সামনে বাজেটের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটা উচ্চ ও বাস্তবতা বিবর্জিত। এই বাজেটের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা তারা ব্যয় করবে। এই আয়টা তারা বলতেছে, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা তারা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। যেটা আসলে বাস্তবতা বিবর্জিত। কারণ এই পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা সরকারের পক্ষে, এই প্রশাসন এবং কর কাঠামোর পক্ষে সম্ভব না। ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার যেই রাজস্ব সেটা যদি আদায় করতে না পারে স্বাভাবিকভাবে ঘাটতি কিন্তু অনেক বাড়বে। সরকারকে তখন কী করতে হবে? ব্যাংকগুলো থেকে এবং বিদেশ থেকে ঋণ নিতে হবে। এই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা আয় অর্জন করতে হলে রাজস্ব প্রবৃদ্ধির হার অন্তত ৪২ শতাংশ হতে হবে। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৭.৩ শতাংশ। যদি আগামী অর্থবছরে সেই সর্বোচ্চ রেকর্ড করা সম্ভব হয় তাও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকবে। ফলে এই ঘাটতি সরকার কীভাবে মেটাবে?

তিনি বলেন, সরকার খুব সুন্দর সুন্দর কথা বলেছে। বাজেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট দেখাচ্ছে। একইভাবে কিন্তু এটা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট হবে। ঋণগ্রস্ত বাজেট বলা যেতে পারে এটাকে। ফলে সরকার ব্যাংক থেকে আরও ঋণ বাড়াবে।

বিরোধী দলের চিপ হুইপ বলেন, ঋণের পরিমাণ ৮ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা পৌঁছেছে। এটা বৈদেশিক ঋণ। আর হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রায় ১৬ গুণ বেড়েছে। ব্যাংক থেকে আরও যদি ঋণ নেয় তাহলে বেসরকারি খাতে যে চাপটা পড়বে, বেসরকারি খাতের থেকে তারা বিনিয়োগ পাবে না। তারা লোন পাবে না এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে।

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে অর্থনৈতিক গণতন্ত্রের কথা বললেও ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেননি। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, লুটপাট ও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়নি। বরং ব্যাংকিং খাত কীভাবে তারা সংস্কার করবে, আমরা যেই নজিরবিহীনভাবে ব্যাংকিং খাত দলীয়করণ, রাজনীতিকরণ দেখতেছি। ইসলামী ব্যাংক এটা আমাদের সামনে একটা বড় উদাহরণ।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকে এখন আবারো এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের যেই নৈরাজ্যটা ছিল এবং আমানতকারীদের, গ্রাহকদের যে অনাস্থা, সে অনাস্থা কিন্তু নতুন করে আবার শুরু হয়েছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post প্রবাসীদের কষ্ট ও ভোগান্তির বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদলেন জামায়াত আমির
Next post প্রস্তাবিত বাজেট ‘গণবিরোধী ও লুটপাটের’: অভিযোগ জামায়াতে ইসলামীর
Close