‘বাংলাদেশ চীনের সহযোগিতায় তিস্তা নদীতে একটি ব্যারাজ নির্মাণ করতে চায়। এটি বাংলাদেশের পছন্দের বিষয়। এটি বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে ভারত কোনোভাবেই বাংলাদেশকে থামাতে পারে না। ভারত শুধু বলতে পারে, এটি আমাদের উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এটি বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন নদী।’

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিজেপির জয়ে দেশটির কেন্দ্রের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও একই দলের সরকার ক্ষমতায় থাকছে। এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নয়াদিল্লিতে নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাটস্ট্র্যাটে’র কনভেনর ও বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ।

সম্প্রতি নয়াদিল্লির সুষমা স্বরাজ ভবনে সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন সাবেক এই হাইকমিশনার।

পঙ্কজ শরণ বলেন, ‘অনেক বছর পর এবার এমন পরিস্থিতি আসছে, যখন ভারতের কেন্দ্রে ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে একই দলের সরকার থাকবে। বিজেপি সরকার নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী। কেননা, বাংলাদেশের সঙ্গে এমন অনেক বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে রাজ্যে ও কেন্দ্রের মধ্যে দ্বিমত ছিল। আমি মনে করি, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিজেপির জয় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।’

‘সীমান্তে যা ঘটছে তা দুর্ভাগ্যজনক। এমনটা মোটেও হওয়া উচিত নয়। এই সমস্যার সমাধান বাংলাদেশ ও ভারত উভয় পক্ষের কর্তৃপক্ষের হাতেই রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধভাবে মানুষ ও পণ্য চলাচল নিশ্চিত করতে একটি অত্যন্ত উন্নত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা থাকা উচিত বলে আমি মনে করি।’
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। নতুন করে চুক্তির জন্য যে আলোচনা সেখানে পানি প্রবাহের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তি বছর পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠতে পারে জানিয়ে ন্যাটস্ট্র্যাটের কনভেনর বলেন, ‘গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য আমি শুনিনি। ৪০ বছরের পানি প্রবাহের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ওই চুক্তিতে পানিবণ্টনের ফর্মুলা ঠিক করা হয়েছিল। এবার নতুন চুক্তির জন্য আলোচনায় পানি প্রবাহের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তি বছর পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠতে পারে।’

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পঙ্কজ শরণ বলেন, ‘বাংলাদেশ চীনের সহযোগিতায় তিস্তা নদীতে একটি ব্যারাজ নির্মাণ করতে চায়। এটি বাংলাদেশের পছন্দের বিষয়। এটি বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে ভারত কোনোভাবেই বাংলাদেশকে থামাতে পারে না। ভারত শুধু বলতে পারে, এটি আমাদের উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এটি বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন নদী।’

Previous post হাসিনার পরামর্শে মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দুকে বসানো হয়েছে : কর্নেল অলি
Next post ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত
Close