ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। এর মাধ্যমে ১৯ বছরের বেশি সময় পর ফের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাচ্ছে দলটি। এই প্রত্যাবর্তনের পর তারা কোন কোন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে তা নিয়ে এখন নানা বিশ্লেষণ চলছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একদিন পর শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স বিএনপির বিপুল জয়ের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানকে সামনে রেখে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরতে যাওয়া দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পথে। তবে এর সঙ্গে তার সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো ও তৈরি পোশাক শিল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা।
এদিকে, আজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থনীতিকে সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা ও দুর্নীতি রোধ করা।
এ নিয়ে কথা হলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক সিকদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। সেক্ষেত্রে নানা ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকাটা স্বাভাবিক। আবার সরকার গঠন করলে সরকারের নানা চ্যালেঞ্জ থাকে। বিশ্বাস করি তারেক রহমানের সুদৃঢ় নেতৃত্বে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা হবে।’
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাজনীতি বিশ্লেষক মোবাশ্বের হোসেন টুটুল জাগো নিউজকে জানান, বাংলাদেশের সামনে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হলো সংসদ গঠন ও সংস্কার প্রক্রিয়া জুলাই সনদ অনুযায়ী বাস্তবায়ন এবং এর পূর্ণ আইনি কাঠামো দাঁড় করানো। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিনের অপশাসনের ফলে ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে পুনর্গঠন, সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্রকে জনবান্ধব ও ব্যয় সাশ্রয়ী করে গড়ে তোলা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
বিচার বিভাগকে দীর্ঘসূত্রতা থেকে বের করে এনে আইনের শাসনের প্রতি জনআস্থা ফেরানো, আর্থিক খাত সংস্কার করে অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান তৈরি ও সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানো- এগুলোও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক কূটনীতি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্র সম্পর্কে টুটুল বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনঃরুদ্ধার এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক রাজনীতিতে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অর্থ ও বাণিজ্য নীতি প্রণয়ন করতে হবে। সেই সঙ্গে কৌশলগত দিক বিবেচনায় সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি, রোহিঙ্গা-সংকটের মতো বড় উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধান, দেশীয় স্বার্থ বিবেচনায় আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস রোধ- এসব কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
More Stories
ঢাকায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বৈঠক, যেসব আলোচনা হলো
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ঢাকায় সফররত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস...
আত্মগোপনে থাকা নানকের দেশছাড়ার বর্ণনা: আনন্দবাজার
জাহাঙ্গীর কবির নানক তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য। দু’বারের সাবেক মন্ত্রী। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট...
জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হয়। সাধারণ মানুষকে অভাবের মধ্যে রেখে কিংবা তাদের...
পার্বত্য অঞ্চল ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, সতর্ক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পার্বত্য অঞ্চল ও পাহাড় ঘিরে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এই পরিস্থিতি দৃঢ়ভাবে...
নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে
যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত এবং অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে বাংলাদেশ ও...
হেফাজত আমিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবস্থিত আল-জামিয়াতুল...
