কাজী মশহুরুল হুদা : BUFLA (Bangladesh unity federation of LosAngeles ) লস এঞ্জেলেস বাংলাদেশী কমিউনিটির একটি মাদার সংগঠন৷ বাংলাদেশী প্রায় ত্রিশটি সামাজিক রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে বাফলা গঠিত৷ বাফলার শুরুটা হয়েছিল ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’র মাধ্যমে৷ বাংলাদেশ ডে প্যারেড বাফলার সিগনেচার প্রোগ্রাম হলেও,গত দশ বছরে বাফলার কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে বহুমুখী৷ বাফলার চ্যারিটি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে আমেরিকা বাংলাদেশ সহ বিশ্বের কয়েকটি দারিদ্র পীড়িত অঞ্চলে৷ বাফলার শুরু থেকেই বাংলাদেশী কমিউনিটিতে কিছু বিতর্ক ঘুরপাক খাচ্ছে গত দশ বছর ধরে৷ তবে এ কথা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে,আমেরিকাতে বাংলাদেশকে বর্ণিল ভাবে মূলধারায় তুলে ধরতে বাফলার চেয়ে অন্য কোনো সংগঠন সক্ষম হয়নি আজও৷ বাংলাদেশ ডে প্যারেডে বাংলাদেশের পতাকার রঙে লাল-সবুজের যে দৃষ্টিনন্দন উপস্থাপন তা প্রতিটা বাংলাদেশিকে গর্বিত করে৷ এই প্যারেডে বাফলার সাথে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো নিজ নিজ সংগঠনের পোস্টার ফেস্টুন নিয়ে যে মার্চ পোস্টে অংশ গ্রহণ করে,তা দেখতে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকে হাজারো ভিনদেশি অভিবাসী৷
এই প্যারেডে আরো অংশ নেয়,স্থানীয় আমেরিকার মূলধারার জনপ্রতিনিধি সহ গন্যমান্য ব্যক্তিত্ব৷ পুরো প্যারেডটি আমেরিকা বাংলাদেশ সহ অনেক মিডিয়া ব্রডকাস্ট করে৷ প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথিরাও অভিভূত হয় এমন দেশপ্রেমে ভরা সুনিপুন আয়োজনে৷ বাফলার আকাশচুম্বি সফলতার পরও কেন তবে বিতর্ক? বিতর্ক আছে! তবে সে বিতর্কে যাওয়ার আগে একটি কথা না বললেই নয়, বাফলার দশ বছরের পথচলায় এই যে সফলতা, এর মূল কারণ বাফলা পরিচালিত হয় একটি স্বচ্ছ টিম দ্বারা৷ যাদের কমিউনিটি সেবায় রয়েছে একটি অত্যন্ত সৎ উদ্দেশ্য৷ বাফলা দ্বারা বড় বড় প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হলেও কখনো অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতার প্রশ্ন উঠেনি৷ সংগঠন পরিচালনায় অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা বাফলার সফল পথচলা একটি বড় কারণ৷ এ ছাড়া বাফলার নীতিনির্ধারকদের মাঝে এমন কিছু মানুষ রয়েছে, যাদের কমিউনিটিতে কোনো নেতিবাচক ইমেজ নেই৷ এবার আসি বিতর্ক প্রসঙ্গে, বাংলাদেশী কমিউনিটিতে বাফলার বিরুদ্ধে অনেক কথিত নেতা রয়েছেন৷ যাদের বাফলা বিরোধিতার মূল কারণ নেতৃত্ব! নেতৃত্ব বঞ্চিত হয়েই তারা বাফলার বিরোধিতা এবং অপপ্রচার করে৷ এই বিরোধীতাকারীরা শুরুতে বাফলার সাথেই ছিল কিন্তু নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়ে, বাফলা ছেড়ে আসে অথবা আসতে বাধ্য হয়েছে৷
তবে বাফলার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির একটি যৌক্তিক অভিযোগ আছে৷ বাফলার সাথে সংশ্লিষ্ট সংগঠন গুলোর মধ্য একটি সংগঠন আমেরিকাতে ‘মুনা’ নামে নিবন্ধিত৷ এরাও বাফলার সদস্য৷ এই সংগঠনটির বাংলাদেশ জামাত-ই-ইসলামের প্রবাসী শাখা হিসাবে পরিচিত৷ এই সংগঠনের প্রতিটা নেতা-কর্মী বাংলাদেশে জামাত-শিবিরের সাথে জড়িত ছিল৷ প্রবাসেও এদের কার্যক্রম মুক্তিযদ্ধের আদর্শ পরিপন্থী৷ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি বরাবরই বাফলা থেকে মুনার বহিষ্কার দাবি করে আসছে এবং মুনার কারণে তারা বাংলাদেশ ডে প্যারেডের বর্ণিল আয়োজন থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখে৷ যদিও বাফলার সাংবিধানিক নিয়মে মুনাকে হঠাৎ করে বেরিয়ে দেওয়াও সম্ভব নয়৷ গত দশ বছরে বাফলার আয়োজনেও পরিবর্তন স্পষ্ট৷ তাদের বার্ষিক ম্যাগাজিনে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে সঠিক উপস্থাপনের একটা প্রয়াস লক্ষ করা যাচ্ছে৷ আমরা সচেতন বাংলাদেশিরা আশা রাখি বাফলা তাদের স্বতন্ত্র পথচলায় আরও গতিশীল হোক, বঙ্গবন্ধুকে আমাদের জাতির পিতা হিসাবে মূল্যায়ন করে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বাংলাদেশী আমেরিকান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরুক৷ বাফলার উত্তর উত্তর সফলতা কামনা করি৷ বাফলা সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করুক৷