Read Time:4 Minute, 55 Second

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আছে। সেই ক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলো আইন এবং রীতিনীতি মেনে প্রচার করবে এবং এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের কোনো কোনো গণমাধ্যম দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা বাংলাদেশে একদম সরাসরি নিষেধ আছে। শুধু দণ্ডপ্রাপ্ত বলে না, তার বক্তব্য প্রচার করা যাবে না এ রকম আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে এবং আমাদের অনেক মিডিয়া এ কাজটা করছে। তার মানে হচ্ছে তারা আদালতের নিষেধাজ্ঞা, নির্দেশনা মানছেন না।’

তিনি বলেন, ‘সরকার এটার ব্যাপারে…যেহেতু এই মিডিয়াগুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে, আমরা প্রাথমিকভাবে এই আহ্বান জানাই, এটা ইনফ্যাক্ট আমরা ফরমালিও জানাব, এটা নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে, তারা যেন এই কাজটা না করেন।’

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমরা এটা নিয়ে খুবই কঠোর কোনো অবস্থান নিচ্ছি তা না, কিন্তু এটা আবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই এবং আমি মনে করি যে আমাদের মিডিয়াগুলো আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবে, শ্রদ্ধা দেখাবে এবং তারা এই জিনিসটা থেকে বিরত থাকবে।’

ব্রিফিংয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়েও কথা বলেছেন ডা. জাহেদ উর রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে যেকোনো দেশের কানেক্টিভিটি হলে সেটি দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই করা হবে। কানেক্টিভিটির বিষয়ে সরকারের আগ্রহ আছে। চীনের সঙ্গে কানেক্টিভিটির সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হবে।’

প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ায়। এ বিষয়ে ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর তার সব ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এরপর গত বছরের ১৭ নভেম্বর জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত শেখ হাসিনার বক্তব্য ও বিবৃতি প্রচার না করতে গণমাধ্যমকে নির্দেশ দেয় জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সম্প্রতি ফের তার সাক্ষাৎকার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার সেই সাক্ষাৎকার নানাভাবে ছড়াচ্ছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা আবারও স্মরণ করিয়ে দেন উপদেষ্টা।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post মানবতাবিরোধী অপরাধ : ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড
Next post বাজেটকে ‘অস্বচ্ছ ও অবাস্তবায়নযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে না ভোট দিল বিরোধীদল
Close