Breaking
Sun. Nov 1st, 2026

ডেমোক্র্যাটরা জিতলে কংগ্রেস ছাড়াই সরকার চালানোর ছক ট্রাম্পের

মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণের কথা ভেবে বিকল্প প্রস্তুতি নিচ্ছে হোয়াইট হাউস। গত কয়েক মাস ধরে এই প্রস্তুতি চলছে। তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করতে চাইছে। এটিকে কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলো কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত আরও দুজন ব্যক্তি রয়টার্সকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। ওই তিনজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত এপ্রিল মাস থেকে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার, বাজেট পরিচালক রাসেল ভটসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা কাউন্সেলস অফিসের সঙ্গে কাজ করছেন। তাদের লক্ষ্য হলো- অভিবাসন, শুল্ক, আবাসন ও সরকারি ব্যয় নিয়ে এমন নির্বাহী পদক্ষেপ চিহ্নিত করা, যেগুলো ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নিতে পারবেন।

আইনের মধ্যে থেকে ট্রাম্প এককভাবে কী করতে পারেন, নিজের ক্ষমতার সীমা কতটা বাড়াতে পারেন এবং আদালতে নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কীভাবে সমর্থন তুলে ধরবেন- সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ কাজ করছেন হোয়াইট হাউসের কাউন্সেল উইল শার্ফ ও তাঁর দল।

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর। এর মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু, আইন প্রণয়ন আটকে দেওয়া এবং ব্যয়ের অগ্রাধিকার সীমিত করার ক্ষমতা পাবেন। তবে বাণিজ্য, পররাষ্ট্রনীতি ও ফেডারেল সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকবে। দ্বিতীয় মেয়াদে ইতোমধ্যে তিনি এসব ক্ষমতার আগ্রাসী ব্যবহার করেছেন।

রিপাবলিকানদের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভাঙতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট- দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি করে আসন বাড়াতে হবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন ২১৮, ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি। সিনেটে দুই দলের আসনসংখ্যা যথাক্রমে ৫৩ ও ৪৭। জনমত জরিপে নিম্নকক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে উচ্চকক্ষের লড়াই এখনো হাড্ডাহাড্ডি।

কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে গত এক মাসে দেশজুড়ে বিভিন্ন সমাবেশ করেছেন ট্রাম্প। একই সময় তাঁর সহযোগীরা ২০২৭ সালের সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোপনে প্রস্তুতি নিয়েছেন। হোয়াইট হাউস ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য পরাজয়ের বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে উল্টো গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে মিথ্যা বয়ান ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছে।

নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে ট্রাম্প সম্ভাব্য আর কী পদক্ষেপ নিতে পারেন- সে সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের সূত্ররা। তাদের মধ্যে একজন বলেন, পদক্ষেপগুলোর মধ্যে আছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও উইন্ড টারবাইন আমদানিতে শুল্ক আরোপ, বিদেশি শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মীদের ভিসার নিয়ম কঠোর করা এবং আবাসন ও নির্মাণ ব্যয় কমানো।

Related Post