Breaking
Fri. Oct 30th, 2026

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরীক্ষার নতুন ধাপ শুরু

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের নতুন ধাপ শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইউনিট-১-এর ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ স্টেজ সি’ শুরু করার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। অনুমোদনের পরপরই এ পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আজ শুক্রবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং বা চালু করার প্রক্রিয়ায় স্টেজ সি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

পরীক্ষার আওতায় থাকবে রিঅ্যাক্টর, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের শীতলীকরণব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা। রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করা হবে।

এ ছাড়া টারবাইন নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থা, জেনারেটর এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন ব্যবস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে কি না, তা যাচাই করা হবে।

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য

স্টেজ সি পর্যায়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করার পর প্রথম ইউনিটের জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা। এ প্রক্রিয়াকে সিঙ্ক্রোনাইজেশন বলা হয়। এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদ্যুৎ সরবরাহের দিকে এগিয়ে যাবে ইউনিটটি।

তবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের পরবর্তী কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণ ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। ফলে স্টেজ সি শুরু হওয়াকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কমিশনিং প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে; এটি বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর ঘোষণা নয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে স্টেজ সি শুরু হওয়া বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এ পর্যায়ের সব কার্যক্রমে পারমাণবিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

Related Post