Breaking
Sun. Nov 1st, 2026

৬ ঘণ্টা শ্রমিক বিক্ষোভে রণক্ষেত্র গাজীপুর, আগুন-ভাঙচুর

মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের টানা ছয় ঘণ্টার বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। এ সময় দুটি পুলিশ বক্স ও একটি কারখানার ঝুটের গুদামে আগুন দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়িসহ অন্তত ১৫টি যানবাহন।

অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ছয় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, আনসার, শিল্প পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

পুলিশের দাবি, শ্রমিকদের আন্দোলনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ইন্ধন দিচ্ছেন। তবে শ্রমিক নেতাদের দাবি, আন্দোলনে কোনো তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততা নেই।

শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার দুপুরে চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকরা পুলিশের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে কোনাবাড়ী এলাকায় একই দাবিতে আবারও সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। পরে চন্দ্রা, মৌচাক ও সফিপুর এলাকাতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কোনাবাড়ীতে দুটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিকাল নিটেক্স লিমিটেডের একটি গুদামেও আগুন দেওয়া হয়। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আটকে দেন আন্দোলনকারীরা।

কালিয়াকৈর ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, আগুনের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গেলেও শ্রমিকদের অবরোধের কারণে সামনে যেতে পারেননি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

দুপুর সাড়ে ১২টার পর প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিকেল ৩টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এদিকে বিক্ষোভের মুখে শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কারা নেতৃত্ব ও ইন্ধন দিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোটের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন নিয়ে সরকারের বিলম্বের কারণে শ্রমিকরা ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাঁদের মধ্যে তৃতীয় কোনো পক্ষ নেই।

গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

Related Post