Read Time:6 Minute, 42 Second

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ মানে বাংলাদেশকে একা করে রাখা নয়; বরং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য দেশকে প্রস্তুত করা। আর পোশাক ও প্রবাসী আয় খাতের পাশাপাশি জ্ঞানভিত্তিক কর্মীদের অর্থনীতির নতুন ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ মানে বাংলাদেশ একা নয়। এর অর্থ বাংলাদেশকে প্রস্তুত করা।

বৃহস্পতিবার এখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ‘এআই অ্যান্ড ইনোভেশন ডায়ালগ’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে যার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, সেই পোশাক ও প্রবাসী আয় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির ‘ডাবল হেলিক্স’ বা দ্বৈত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০৩৪ সালের মধ্যে যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, তা অর্জনে অর্থনীতির তৃতীয় একটি ভিত্তি- ‘জ্ঞানভিত্তিক কর্মী’ প্রয়োজন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন ও উন্নত প্রযুক্তিকে দেশের অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির এজেন্ডার কেন্দ্রে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়ার প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে বাংলাদেশের যাত্রায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হবে।

সম্প্রতি সিলিকন ভ্যালিতে তাঁর মন্ত্রিসভা পর্যায়ের সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি ঢাকা ও সিলিকন ভ্যালির মধ্যে প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশের উদীয়মান প্রযুক্তি কূটনীতির অংশ হিসেবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

জুন মাসে মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি’ সম্মেলনের পর এটি ছিল তৃতীয় থিম্যাটিক রাউন্ডটেবিল।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিহুল্লাহ প্রধান অতিথি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বিশেষ অতিথি হিসেবে সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।

সংলাপের উদ্বোধনী বক্তব্যে পররাষ্ট্রসচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শুধু অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তির বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের অন্যতম মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনাসংক্রান্ত বৈশ্বিক নিয়মকানুন ‘একসঙ্গে অনেক জায়গায়’ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নীতি থাকবে ‘স্বাধীন এবং বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত’।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাবিহুল্লাহ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল পুরোপুরি কাজে লাগাতে সরকারজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য হবে।

আসাদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ে সরকারের সর্বশেষ অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি অনুবিভাগের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন সংলাপটি সঞ্চালনা করেন।

তিনি বলেন, সংলাপে পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকারের আওতায় বাংলাদেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রযাত্রা পর্যালোচনা করা হয়। এগুলো হলো– নীতি ও সুশাসন, যোগাযোগব্যবস্থা, ডিজিটাল সরকারি অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, কর্মশক্তি ও স্টার্টআপ এবং উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।

প্রতিটি অগ্রাধিকারের আওতায় সুনির্দিষ্ট করণীয় নির্ধারণ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার দায়িত্ব চিহ্নিত করাই ছিল এ সংলাপের উদ্দেশ্য।

সংলাপের সুপারিশ ও সিদ্ধান্তগুলো বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলোর সঙ্গে বিনিময় করা হবে।

সংলাপে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য, উন্নয়ন অংশীদার এবং প্রযুক্তি শিল্প, স্টার্টআপ, শিক্ষাঙ্গন ও গবেষণাকেন্দ্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post রান্নাঘর ঝাড়ু দিতে দিতে জানলেন তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন
Close