Read Time:4 Minute, 35 Second

আওয়ামী লীগ আসলে দিল্লির এক্সটেনশন হিসেবে বাংলাদেশকে শোষণ করছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দিল্লির আধিপত্যবাদ সবচেয়ে কঠিনতম একটা শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। এই বাংলাদেশের বিগত ১৭ বছরের রাজনীতি যদি আমরা দেখি, তাহলে দেখব যে রাজনীতিটা পুরোমাত্রায় ছিল একটা দিল্লির এক্সটেনশন। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় ছিল সত্য। কিন্তু আওয়ামী লীগ আসলে দিল্লির এক্সটেনশন হিসেবে বাংলাদেশকে শোষণ করছিল।’

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে শহীদ আবরার ফাহাদের ৭ম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘আবরার ফাহাদ: দিল্লির আধিপত্যবাদ প্রসঙ্গ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আখতার হোসেন বলেন, ‘আবরার ফাহাদকে আসলে কী কারণে হত্যা করা হলো? আবরার ফাহাদের অপরাধটা কী?’

তিনি বলেন, ‘আবরার ফাহাদ খুবই সংগতভাবে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেছিলেন। তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে খুবই যৌক্তিকভাবে কিছু বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন, যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থই প্রধানতম ছিল। বাংলাদেশের নদী, সেখানকার পানি, ন্যায্যতা, সেগুলো নিয়ে তার কনসার্ন ছিল। তিনি উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছিলেন যে, কাবেরী নদীর পানি নিয়ে যদি কর্ণাটক এবং তামিলদের মাঝে দ্বন্দ্ব হতে পারে, একই দেশের মানুষ হয়ে তারা যদি এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ছাড় না দেয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ কেন তার অভিন্ন নদীগুলোতে পানির ক্ষেত্রে ভারতকে ছাড় দেবে। এটাই ছিল তার কনসার্নের জায়গা।’

‘সেই কনসার্নটা ব্যক্ত করার কারণেই সে সময়টাতে আবরার ফাহাদকে রাতভর নির্মম নির্যাতনের মধ্য দিয়ে তাকে হত্যা করা হলো, শহীদ করা হলো। আবরার ফাহাদ আমাদের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের প্রতীক। আবরার ফাহাদ দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এই বাংলাদেশের একজন মূর্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছেন, যিনি সাহস করে সেই সময়টাতে কথাগুলো বলতে পেরেছিলেন।’

আখতার হোসেন বলেন, ‘শেখ হাসিনা এ কথাটা বলে যে, ভারতকে যা দিয়েছে, সেটা ভারত আজীবন মনে রাখবে। ভারতবর্ষ সেটা মনেও রেখেছে। এই বাংলাদেশে হাজার হাজার গুম, খুন, অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন করার পরেও, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কালে একটা নারকীয় গণহত্যা বাংলাদেশের মানুষের উপরে চাপিয়ে দেওয়ার পরেও তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে রেখেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন সাধারণ মানুষকে নাগরিকত্বহীন করা যায় না, তার অধিকারকে হরণ করা যায় না। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে, আসামে অনেক মানুষকে তারা নাগরিকত্বহীন করে ফেলেছে। তাদেরই দেশের মানুষ, কিন্তু শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলে, মুসলমান এ কারণেই নাগরিকত্বহীন করে দেওয়া হচ্ছে।’

‘একটা চক্রান্ত চলছে। যেভাবে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পুশ করা হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে ভারতের নাগরিকদের নাগরিকত্বহীন করে বাংলাদেশে পুশিং করার একটা চেষ্টা আমরা বিভিন্ন সময় খেয়াল করছি। এ ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি ‘একটি গেম চেঞ্জার’: আশিক চৌধুরী
Next post রান্নাঘর ঝাড়ু দিতে দিতে জানলেন তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন
Close