Read Time:5 Minute, 37 Second

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চান না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘দেখুন, আমি একজন রাষ্ট্রদূত। আর যা ইন্টারনাল পলিটিক্স (অভ্যন্তরীণ রাজনীতি) হয়, ওতে আমরা কিছু বলতে চাই না, আর আমাদের কোনো কথা বলা উচিতও না। কেন কি যা দেশের মানুষ ভালো বুঝবে, যা দেশের ইলেক্টেড গভর্মেন্ট উইথ মেজরিটি (সংখ্যাগরিষ্ঠসহ নির্বাচিত সরকার), যা ওরা ভালো বুঝবে যে লোকেদের জন্য কী ভালো, ওইটাই সত্যি কথা।’

ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে তার অবস্থান ও দুই দেশের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিনিধি তো আমরা একই চাই, যে পিপল-টু-পিপল রিলেশনশিপ (জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক), ওইটা সব সময়… আমি না থাকলে অন্য কেউ আমার জায়গায় থাকলে একই জিনিস। আপনারও যা প্রতিনিধি ওখানে দিল্লিতে আছে, উনিও একটাই কথা চায় যে, পিপল-টু-পিপল কীভাবে আমরা…।’

দুই দেশের অভিন্ন সীমান্ত ও প্রতিবেশী সম্পর্কের কারণে দায়িত্ব আরও বেড়ে যায় উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘বর্ডার তো শেয়ার করিই, তার জন্য আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। অ্যাজ এ নেইবার (প্রতিবেশী হিসেবে), আর আমার দায়িত্ব বেড়ে যায়। আর এই নেইবারে আমি সব সময় বলি, উই আর ইকুয়াল (আমরা সমান), নো বডি ইজ বিগ (কেউ বড় না), নো বডি ইজ স্মল (কেউ ছোট না)।’

ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক কিছু এখানটায় এসে শিখছি। মন্ত্রী মহোদয়ের… আমি ছিলাম অল্প, ৩০ মিনিট বোধহয়। এই ৩০ মিনিটে তো আমি অনেক শিখেছি। কেন কি উনার যা এক্সপেরিয়েন্স আছে, আর কেন? মানুষের জন্য, ঠিক তো? তাহলে এর কোনো শেষ নেই।’

বাংলাদেশ ও ভারতের নিজ নিজ প্রতিবন্ধকতাকে পরস্পরের উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আর চ্যালেঞ্জেস (প্রতিবন্ধকতা) থাকবে। আমাদের এপ্রিশিয়েট করতে হবে যে বাংলাদেশের কী ডেমোক্রেটিক চ্যালেঞ্জেস। বাংলাদেশকেও এপ্রিশিয়েট করতে হবে যে ইন্ডিয়ার কী চ্যালেঞ্জেস। ওই চ্যালেঞ্জেসটা আমাদের মাথায় রেখে আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।’

অতীতে আটকে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমরা যদি আমরা পাস্টে (অতীত) যদি আমরা আটকে যাই… পাস্ট আমরা ভুলতে পারি না, কিন্তু আটকে যাওয়ার তো কোনো জায়গা নেই। আটকে গেলে উন্নয়নের কাজ হবে না।’

দুই দেশের মানুষের স্বার্থে বাণিজ্য ও মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর এটাও আজকে কথা হলো যে, মানুষ-মানুষের জন্য ট্রেড, ফ্রি ট্রেড। কীভাবে আমরা দুই দেশে ফ্রি ট্রেড করতে পারি? ডিপেন্ডেন্সি কিংবা ইন্টারডিপেন্ডেন্সি ফ্রি ট্রেড… উনি বললেন না, এটা ফ্রি ট্রেড। তাহলে এই নিয়েও কথা হয়েছে।’

বৈঠকে উপস্থিত থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘উনি (দীনেশ ত্রিবেদী) সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন। আর বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আজকে পহেলা সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উনি মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে উনি তার দেশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছেন। এটা একদম সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। আর আমাদের মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত নিয়ে একটা আলোচনা হয়েছে।’

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post বহুদলীয় গণতন্ত্রই নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রও বিএনপির হাত ধরে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী
Next post চাপে নয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে চাহিদা অনুযায়ী বোয়িং কেনা হচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
Close