Read Time:5 Minute, 36 Second

বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্দেশনা জারি করেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেবে তাদের এই নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে দেশটির সরকার অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি ও বাংলাদেশে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ৪০টির বেশি মেডিক্যাল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করেছিল।

কিন্তু এসব এজেন্সির নাম প্রকাশের পর জনশক্তি রপ্তানি সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি এটিকে ‘সিন্ডিকেট’ উল্লেখ করে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের প্রতিষ্ঠান বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলছেন, যেসব এজেন্সির নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে এগুলোর ২-৩টি ছাড়া বাকি সবই মূলত ডামি এজেন্সি, যেগুলোর পেছনে প্রভাবশালীরা সক্রিয় আছে।

এমন প্রেক্ষাপটে সরকার এ বিষয়ে জানতে চেয়ে মালয়েশিয়া সরকারকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শ্রমবাজার নিয়ে দুই দেশের সরকার কাজ করছে এবং এখানে যা হবে স্বচ্ছতার সঙ্গেই হবে।

তিনি বলেন, ‘আশা করছি, দ্রুতই শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে সে দেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আমরা পেয়ে যাব। কোনো গোপনীয়তা বা সিন্ডিকেট থাকবে না, নিয়ম মেনে সবাই কাজের সুযোগ পাবে।’

এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে মালয়েশিয়ায় গিয়ে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছিলেন, ‘আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাওয়া শুরু হবে।’ পরে চলতি মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়েও একই কথা বলেছিলেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠিক কবে শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার ঘোষণা মালয়েশিয়া দেবে—তা এখন পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বা কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন জানতে পারেনি।

মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০২১ সালে, যার মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। যদিও নানা দুর্নীতি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের তৎপরতা অভিযোগের জের ধরে ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই সমঝোতা স্মারক কার্যকর থাকায় সেটি অনুসরণ করেই বাংলাদেশকে কর্মী পাঠাতে হবে। তবে ডিসেম্বরের পর নতুন সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে সরকার।

জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, আগে যারা সিন্ডিকেট করেছে এবং যাদের দুর্নীতির কারণে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে তারাসহ একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী শুরু থেকেই মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে।

বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলছেন, ‘যাদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তাদের আমরা নিজেরাই তো চিনি না। মালয়েশিয়া সরকার তাদের কিভাবে চিনল। আসলে আগের সিন্ডিকেটের একটি অংশের সঙ্গে নতুন কিছু প্রভাবশালীরা এগুলোর পেছনে আছে এবং এক্ষেত্রে বড় দুর্নীতিও কাজ করেছে।’

যদিও সিন্ডিকেট বা এ ধরনের কোনো কিছুর তৎপরতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

এজেন্সি ও মেডিক্যাল সেন্টার নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যেই রবিবার মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুন নির্দেশনা জারি করাকে দ্রুতই ‘শ্রমবাজার খোলার’ ইঙ্গিত বলে মনে করছে বাংলাদেশ সরকার।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৯৫; ভারতীয়সহ নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক
Next post বিশ্বব্যাপী ভিসা অ্যাপয়েনমেন্ট স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র
Close