Read Time:4 Minute, 36 Second

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে মাংসখেকো ‘নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম’ পরজীবী শনাক্ত হওয়ায় সেখান থেকে গবাদিপশু আমদানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কানাডা। শুক্রবার (৫ জুন) কানাডিয়ান ফুড ইনস্পেকশন এজেন্সি (সিএফআইএ) জানিয়েছে, গত ২১ দিনের মধ্যে টেক্সাসে ছিল এমন গরু ও ঘোড়া আপাতত কানাডায় ঢুকতে পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) জানিয়েছে, টেক্সাসে দ্বিতীয় একটি বাছুরের শরীরেও এই পরজীবী পাওয়া গেছে। এর আগে প্রথম একটি বাছুরে শনাক্ত হয়। এই দুটি ঘটনার পর টেক্সাস গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট শুক্রবার দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গভর্নর বলেন, গ্রীষ্মকালজুড়ে এটি আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কী এই নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম

এটি এক ধরনের মাছি যার লার্ভা (শুয়োপোকা) মাংস খায়। স্ত্রী মাছি জীবিত প্রাণী বা মানুষের খোলা ক্ষতস্থানে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বের হওয়া লার্ভাগুলো ধারালো মুখ দিয়ে মাংসের ভেতর ঢুকে পড়ে। চিকিৎসা না করলে আক্রান্ত প্রাণী মারাও যেতে পারে।

গত বুধবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ৬০ বছরের মধ্যে টেক্সাসে প্রথমবার এই পরজীবী ধরা পড়েছে। মেক্সিকো সীমান্ত থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরে লা প্রাইর এলাকায় তিন সপ্তাহ বয়সী এক বাছুরের নাভিতে লার্ভা পাওয়া যায়।

শুক্রবার আরেকটি ঘটনা ঘটে জাভালা কাউন্টিতে। এক মাস বয়সী আরেক বাছুরের শরীরে একই পরজীবী শনাক্ত হয়, যা প্রথম স্থান থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে। দুটি ঘটনাই ২০ কিলোমিটারের নিয়ন্ত্রণ এলাকার মধ্যে পড়ায় কর্তৃপক্ষ কোয়ারেন্টিন, পশু চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নিবিড় নজরদারি শুরু করেছে।

কর্মকর্তারা মনে করছেন, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকো হয়ে উত্তর দিকে এগিয়ে আসছে এই সংক্রমণ। টেক্সাস যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় গরু ও গরুর মাংস উৎপাদনকারী রাজ্য। তাই এটি কৃষি খাতের জন্য বড় হুমকি বলে জানিয়েছেন গভর্নর অ্যাবট।

কানাডার কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশটির ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে এই পরজীবী বড় আকারে ছড়ানোর সম্ভাবনা কম। তবুও খামারিদেরকে পশুর ক্ষতস্থান, দুর্গন্ধযুক্ত বা পুঁজ বের হওয়া জায়গা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। টেক্সাস ভ্রমণ করলে পোষা প্রাণীদেরও পরীক্ষা করাতে বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে গবাদিপশুর বড় বাণিজ্য রয়েছে। ২০২৫ সালে কানাডা যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ গরু আমদানি করেছে।

১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে স্ক্রুওয়ার্ম নির্মূল হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও মাঝে-মধ্যে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এবার কর্তৃপক্ষ শত শত কোটি জিনগতভাবে পরিবর্তিত বন্ধ্যা মাছি ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া বিশেষ প্রশিক্ষিত স্নিফার কুকুর দিয়ে সংক্রমণ শনাক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, এসব পদক্ষেপ সংক্রমণ পুরোপুরি আটকাতে পারবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post দেশীয় প্রযুক্তির বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার
Next post মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর ইসরায়েলের গোয়েন্দা নজরদারি
Close