মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সিনেট। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি কংগ্রেসের সমর্থন না পায়, তাহলে ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটবে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (১৯ মে) অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটি পরবর্তী ধাপে নেওয়ার পক্ষে ভোট পড়ে ৫০টি, বিপক্ষে ৪৭টি। ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির চারজন সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।
মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে হামলা শুরু করার ৮০ দিন পর রিপাবলিকান এই নেতার প্রতি এটি একটি বিরল তিরস্কার।
এই প্রস্তাবের মাধ্যমে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে না রাখার দাবি জানানো হয়েছে। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকা উচিত বলে মত দেন প্রস্তাবটির সমর্থকরা।
সিনেটে পাস হলেও, ট্রাম্পের প্রত্যাশিত ভেটো থেকে বাঁচতে প্রস্তাবটিকে অবশ্যই রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও পাস হতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে।
প্রস্তাবটির উত্থাপক ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির আলোচনা কংগ্রেসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উপযুক্ত সময় তৈরি করেছে। তার অভিযোগ, তেহরানের পক্ষ থেকে শান্তি ও কূটনৈতিক সমাধানের যে প্রস্তাব এসেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা না করেই প্রত্যাখ্যান করছেন।
এর আগে চলতি বছরে সিনেটে এ ধরনের সাতটি প্রস্তাব রিপাবলিকানরা আটকে দেয়। প্রতিনিধি পরিষদেও তিনটি অনুরূপ প্রস্তাব অল্প ব্যবধানে নাকচ হয়।
প্রস্তাবিত ভোটে পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান একমাত্র ডেমোক্র্যাট হিসেবে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন।
অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল, সুসান কলিন্স, লিসা মুরকোসি এবং বিল ক্যাসিডি প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন।
গত ১ মে ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান কার্যত শেষ হয়েছে। তবে এরপরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজে হামলা ও বন্দর অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে ইরানও হরমুজ প্রণালি অবরোধ এবং মার্কিন জাহাজে হামলা চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৭৩ সালের মার্কিন ‘ওয়ার পাওয়ারস আইন’ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সর্বোচ্চ ৬০ দিন সামরিক অভিযান চালাতে পারেন। এরপর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয় অথবা সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিনের সময় চাইতে হয়।
ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু রিপাবলিকানও মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আগে প্রেসিডেন্টের কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্পপন্থি রিপাবলিকানরা দাবি করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রেসিডেন্ট প্রধান সেনাপতি হিসেবে সীমিত সামরিক অভিযান পরিচালনার সাংবিধানিক অধিকার রাখেন।
More Stories
বিশ্বব্যাপী ভিসা অ্যাপয়েনমেন্ট স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্বব্যাপী নিজেদের ভিসা অ্যাপয়েনমেন্ট স্থগিত করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের সব দেশে থাকা তাদের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে ভিসার জন্য আপাতত কোনে...
এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ও এফ-১ অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) প্রোগ্রাম লক্ষ্য করে নতুন ফি আরোপের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবারের (২৪...
হরমুজ প্রণালিকে ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ উল্লেখ করে ট্রাম্পের মানচিত্র প্রকাশ
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মানচিত্রের ছবি পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড...
হামলা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে চায় ইরান : ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর ইরানের কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান...
ওয়াশিংটন ডিসিতে ছাড়া হচ্ছে ৬ লাখ মশা
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা ও ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের মতো প্রাণঘাতী রোগ ছড়ানো স্ত্রী মশার বিস্তার রোধ করতে...
বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র...
