Breaking
Fri. Oct 30th, 2026

বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলি, বিএসএফের দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে গোলাগুলির খবর প্রকাশের পর তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বাংলাদেশি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও বিএসএফ দাবি করেছে, ঘটনাটি ‘পুরোপুরি ভুয়া ও ভিত্তিহীন’। একইসঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

Pause

Mute
Remaining Time -8:12
Unibots.com

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে বাংলাদেশের অন্তত ছয়টি সংবাদমাধ্যম মঙ্গলবার (১৯ মে) খবর প্রকাশ করে। তবে বিএসএফের একটি সূত্র এই দাবি অস্বীকার করে ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটালকে জানিয়েছে, খবরটি ‘সম্পূর্ণ ভুয়া’।

বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (১৮ মে) সোনাহাট সীমান্ত এলাকায় দুই বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সীমান্তটির উত্তরে ভারতের মেঘালয় এবং দক্ষিণে বাংলাদেশের সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা অবস্থিত।

প্রতিবেদনগুলোতে বিজিবির সিলেট ব্যাটালিয়নের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হকের দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির উদ্ধৃতি দেয়া হয়। ঢাকাভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো লিখেছে, ‘গতকাল বিকেলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনাহাট সীমান্ত এলাকায় ভারতের বিএসএফ গুলি চালালে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়।’

তবে বিএসএফের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটালেরকাছে দাবি করেন, ‘বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, ‘ওই এলাকায় কোনও গুলির ঘটনা ঘটেনি। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে যা প্রকাশিত হয়েছে, তা মনগড়া ও ভুয়া। বাস্তবে এর কিছুই ঘটেনি। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ভারতের সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিএসএফ কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ বিজিবি এই খবর প্রকাশ করেছে। হয়তো আগামীকাল তারাই আবার সেটি অস্বীকার করবে।’

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এটি ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত এবং এটি পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত। পাকিস্তান সীমান্তের পাশাপাশি বাংলাদেশ সীমান্তও পাহারা দেয় বিএসএফ।

‘অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমান্তপাচার ও মানবপাচারের ঝুঁকির’ কারণে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে বিজিবি-বিএসএফের কথিত গোলাগুলির এই খবর এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া ‘পুশ-ইন’ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকাজও দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে বিএসএফ।

সম্প্রতি ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি বুঝিয়ে দিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Related Post