সাম্প্রতিক সময়ে লস এঞ্জেলেসে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কন্সাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহাকে নিয়ে যে আলোচনা, সমালোচনা ও অভিযোগ চলছে তা নিয়ে প্রবাস বাংলা অনুসন্ধান চালায়৷ প্রবাস বাংলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ঘটনার পিছনের ঘটনা৷ লস এঞ্জেলেসের কন্সাল জেনারেল, বর্তমান সরকারের আশীর্বাদ নিয়েই লস এঞ্জেলেসে এসেছেন৷ প্রিয়তোষ সাহা লস এঞ্জেলেসে নিয়োগ পাবার পর থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সহ-সাধারণ বাংলাদেশী ও বাংলাদেশ ভিত্তিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার নীতি নিয়ে কাজ শুরু করেন৷ কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগ তার স্বাভাবিক কার্যক্রমে একধরণের নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করেন, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়৷ সেই থেকে আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বাবু প্রিয়তোষ সাহার সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে৷
এরপর থেকে আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ তার বিরুদ্ধে কাল্পনিক ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন শুরু করে৷ গত বছর ডাঃ রবি আলমের উদ্যোগে শেখ কামাল টুর্নামেন্ট নামে একটা ক্রিকেট ম্যাচ করা হয়৷ যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন আমেরিকায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জিয়া উদ্দিন৷ ঐ টুর্নামেন্ট চলাকালীন আরও একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলছিল৷ এলএ বেঙ্গল ক্লাব আয়োজিত এই টুর্নামেন্টই প্রতি বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয়৷ এলএ বেঙ্গল ক্লাবের আয়োজকদের অনুরোধে ঐ টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন রাষ্ট্রদূত ও কনসাল জেনারেল৷ পুরস্কার বিতরণী এই অনুষ্ঠানে কনসুলারের এসে দাড়ান মুনার নেতা আনিসুর রহমান৷ আনিসুর রহমানের সাথে প্রিয়তোষ বাবুর ছবি ব্যবহার করে তাকে রাজাকার খেতাব দেবার চেষ্টা করা হয় উদ্দেশ্যমূলক ভাবে৷ বাংলাদেশের বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর, ‘বাংলার বিজয় বহর’ নামে একটি অনুষ্ঠান করা হয়৷ ২০১৬ সালে বিজয় বহরে যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা ডঃ মোদাচ্ছের প্রধান অতিথি হয়ে আসেন, তখন আওয়ামী লীগ থেকে জানানো হয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজক তথাকথিত বঙ্গবন্ধুর খুনি মহিউদ্দিনের বন্ধু এবং আইনি সহায়ক হিসাবে কাজ করেছেন৷
এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের বিজয় বহরের অনুষ্ঠানে প্রিয়তোষ সাহা যোগ দেননি বলে জানা যায়৷ তাতে করে আয়োজকরা তার উপর ক্ষিপ্ত হয়৷ বিতর্ক এড়ানোর জন্য প্রিয়তোষ সাহা অনেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিরত থাকেন৷ তার উপর আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ও কমিউনিটির কিছু নেতা ও ব্যক্তি ক্ষিপ্ত কন্সাল অফিসে দাওয়াত না পাওয়ার কারণে৷ এর মধ্য অন্যতম যুবলীগের একটি অংশ৷ যার নেতৃত্বে রয়েছে বেঙ্গলী আমেরিকান হিন্দু সোসাইটির একটি গ্রুপের নেতা বলে প্রকাশ। উল্ল্যেখ্য কোন্দলের কারণে লস এঞ্জেলেসে হিন্দুদের তিনটি গ্রুপ রয়েছে৷ কমিউনিটিবাসীর পক্ষে কন্সাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহার বিরুদ্ধে যে স্বারকলিপি দেওয়া হয়েছে, সেখানে কমিউনিটির কোনো সংগঠন বা নেতৃস্থানীয়রা স্বাক্ষর করেনি৷ স্বারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন পনেরোজন, যার মধ্য দুজন আওয়ামী লীগ নেতা বাকি সবাই যুবলীগের (খণ্ডিত) ও হিন্দু সংগঠনেরা স্বাক্ষর করেছেন৷ মূলত আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে উস্কানি দিচ্ছে, আওয়ামী লীগ বিরোধী একটি অংশ৷ এছাড়াও অনেকে এর পিছনে হাত রয়েছে বলে মনে করছে৷ তবে আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ‘এই প্রক্রিয়ার সাথে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই৷’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয়তোষ সাহা স্বাধীনতার স্বপক্ষের একজন অফিসার৷ আমরা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নিন্দা জানাই ৷’