বাংলাদেশে ‘গণগ্রেপ্তার’ এবং বিরোধী দলের সদস্যদের বাড়িতে পুলিশি অভিযানের ফলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আগে সহিংসতা এবং ভীতি ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
সোমবার (১০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তারা বলে, বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে যে নির্বাচনের আগে তাদের ওপর কর্তৃপক্ষের দমন-পীড়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন তারা।
তবে এ বিবৃতি বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘এটি সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য বিএনপি ও জামায়াতের নিছক অপপ্রচার ছাড়া কিছু নয়’।
এইচআরডব্লিউ-এর প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় তিনি ইউএনবিকে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। গণগ্রেপ্তার ও পুলিশি অভিযানের অভিযোগ সত্য নয়। পুলিশের কিছু নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং কখনো তারা প্রয়াজনে নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, পুলিশের বিশেষ শাখা এই কাজ করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যখন কেউ নিখোঁজ হয়, তখন পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যরা সত্য জানতে তাদের পরিবারের কাছে যায়। এটি রুটিন কাজ, অন্য কিছু নয়।
নিউইয়র্ক-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা এইচআরডব্লিউ তাদের বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রচারে প্রায়ই সহিংসতা হয়। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তার দলের সদস্য ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিরোধীদের জনসভায় হামলা এবং লাঞ্ছিত করার অভিযোগের সঠিক তদন্ত ও বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক ড. মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার বলেছেন যে, বাংলাদেশ পরিপক্ক গণতান্ত্রিক দেশ এবং এখানে নির্বাচন পরিচালনা এবং ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর হয়। কিন্তু এর পরিবর্তে আগের নির্বাচনগুলিতে সহিংসতা, বিরোধীদের ওপর আক্রমণ এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক হামলা ও গ্রেপ্তারের সাম্প্রতিক ঘটনা আসন্ন সংসদ নির্বাচনের জন্য একটি অশুভ পরিবেশ তৈরি করেছে’।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২২ আগস্ট থেকে জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিক্ষোভ শুরুর পর বিএনপির সঙ্গে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষে কমপক্ষে চারজন মারা গেছে এবং শতাধিক আহত হয়েছে।
বিএনপি নেতাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, দলটির সমর্থকদের বিরুদ্ধে অন্তত ২০ হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা মামলাগুলিকে বিরোধীদের বাড়িতে অভিযান চালানোর জন্য ব্যবহার করছে, যা রাজনৈতিক হয়রানি এবং ভয় দেখানো বলে মনে হচ্ছে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সংসদীয় নির্বাচনের প্রক্কালে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন মীনাক্ষী গাঙ্গুলি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কূটনীতিকদের উচিত প্রকাশ্যে এবং ব্যক্তিগতভাবে এসব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা। এবং বলা যে এ ধরনের দমন-পীড়ন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য হুমকিস্বরূপ।
More Stories
যুদ্ধের কারণে দুবাইয়ে সম্পত্তির দাম কমছে
ইরানে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এই যুদ্ধ তিন সপ্তাহ পেরিয়ে চার সপ্তাহে পড়েছে।...
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি, ট্রাম্প সময়ক্ষেপণ করতে চান : ইরান
গত দুইদিন ইরানের সঙ্গে সব ধরনের সংঘাত বন্ধে বেশ ভালো আলোচনা হয়েছে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ ট্রুথ...
ইরানের শীর্ষ নেতাদের সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দফতরের ডিপ্লোম্যাটিক...
হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলে বাধা দেবে না ইরান
বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ নৌ করিডরটিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। চলমান...
নেপালকে বাংলাদেশ হতে দেব না: সুশীলা কারকি
নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি বলেছেন, নেপালকে কোনোভাবেই বাংলাদেশের পথে হাঁটতে দেওয়া হবে না। সম্প্রতি কাঠমান্ডুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে...
মাদুরোর পরিবর্তে নেতানিয়াহুকে অপহরণ করা উচিত: খাজা আসিফ
স্বল্প সময়ের মধ্যে দুই দফা টেলিফোন আলাপের পর এবার সৌদি আরবের জেদ্দায় বৈঠক করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ...
