বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক সিনিয়র নেতা ও রাজনীতিবিদ ছিলেন, কিন্তু একটা মানুষও স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পারলেন না।
শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের কাচারিতে অবস্থিত একটি পার্টি সেন্টারে জেলা জামায়েত আয়োজিত বার্ষিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরোও বলেন, তারা স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়নি এটাই বাস্তবতা। শেষ পর্যন্ত পরের দিন একজন সামরিক মেজর তাকে নিয়ে আসা হয় স্বাধীন ঘোষণা দেয়ার জন্য আর তিনি হলেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিলো এটা তাদের মন মতো হলো না। তখন আবার দ্বিতীয় বার ঘোষণা দেয়া হলো সেটাও একজন সামরিক মেজর দিয়েছিলেন। তখন আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতাকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমি মুক্তিযুদ্ধের প্রক্লেমেশন ঘোষণা করছি এটা বলার মতোও কেউ ছিলো না। স্বাধীনতার ঘোষণা তারা দিতে পারেনি। এখন তারা যেসব কথা বলে এটা ভিন্ন।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাসকে জবাই করলেও মুছা যায় না। ইতিহাস কোন না কোনভাবে আবার ফিরে আসে। যার যেখানে যে অবদান সেটাকে আমরা স্বীকার করার পক্ষে। স্বাধীনতার উষালগ্নে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম পতকা উত্তোলন করেছিলো আ,স ম আব্দুর রব এটাও কেউ স্বীকার করে না। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কর্নেল এম.এ.জি ওসমানী তাকেও কেউ স্মরণ করে না। জাতির জন্য যারা জীবন বাজি রেখে অবদান রাখেন তাদের কেউ স্মরণ করতে চায় না। রাজনীতিতে যারা ক্ষমতায় আসে তাদের লোকজন ছাড়া,আর কাউকে তারা চোখে দেখে না। তখন সকল কিছুর অবদান ওই দলের আর ওই দলের নেতাদের।
গণঅভ্যুথান নিয়ে তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান না হলে ২০২৬ সালে নির্বাচনও হতো না। সেই ফ্যাসিবাদই আজ ক্ষমতায় থাকতো। শুধু জুলাইয়ে ১৪শ মানুষ নয়, ১৫ বছর সারাদেশে গুম খুনের রাজত্ব করেছিলো, তারা লুন্ঠনের রাজত্ব করেছিলো। এই দেশে যারা ক্ষমতায় থাকবে তারা জাতির ইচ্ছায় ক্ষমতায় থাকব, জাতির অপছন্দ হলে তারা চলে যাবে। এই পরিবর্তনটাই দেশবাসী চেয়েছিলো, বিশেষ করে যুব সমাজ। কিন্তু যুব সমাজের স্বপ্নের বুকে ছুরি মারা হয়েছে। এই পরিবর্তনের জনয দরকার ছিলো সাংবিধানিক সংস্কার যা বর্তমান সরকার অস্বীকার করেছে। শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে রায় দিলো। সেটাই এখন সরকার অস্বীকার করছে। অথচ এর আগে তারাই বলেছিলো গণভোটের রায় যা হবে তা সকলকে মানতে হবে। এখন তারা বলে নির্বাচনের ওয়াকওয়ে তৈরির জন্য নাকি তারা এটা বলেছিলো।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দ্বিতীয় গণভোট হয়েছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে। সে সময়েও আপত্তি করেন নাই। তৃতীয় গণভোট হয়েছে বেগম জিয়ার হাতে সেটাও মেনে নিয়েছেন। কিন্তু চতুর্থ গণভোট হয়েছে জনগণের হাতে, এইটা আপনারা মেনে নেবেন না’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা ছেড়ে দেবো না। কথা ওনারাও দিয়েছিলেন। আমরাও দিয়েছি। কিন্তু আমরা আমাদের জায়গায় আছি। ওনারা সরে গেছেন। আমরা গণভোটের জন্য শেষ লড়াই চালিয়ে যাবো। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সেই দাবি আদায় করবো। জনগণের রায় বিফলে যাবে না।’তিনি আরোও বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে কেউ কউ নিজেদের মাস্টার মাইন্ড। আবার আন্দোলন চলাকালে কোন দলের বড় নেতা বলেছিলো এই আন্দোলন ছাত্রদের। এটার সাথে বিএনপির কোন সম্পর্ক নেই। এছাড়াও তিনি সারাদেশে চাদাবাজির বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য প্রদান করেন।
More Stories
জাফর ইকবালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ঢাকা...
নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী চার মন্ত্রীসহ ৩৫ জন, জাতিসংঘে বক্তব্য দেবেন বাংলায়
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে চারজন মন্ত্রীসহ ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে সোমবার রাতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন...
জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে সই হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে সেভাবেই বাস্তবায়ন করা হবে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর)...
নভেম্বরে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দিল্লি-ঢাকার আলোচনা: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক পথে ফেরাতে বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে ঢাকা ও দিল্লি। সফরের...
বাবা-মায়ের পথ ধরে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রথমবারের...
আট দফা দাবি না মানলে এক দফার আন্দোলনে যাবো: শফিকুর রহমান
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার জুলাই আন্দোলনের সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে...
