ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন একজন আইনজীবী। রিঙ্কি চ্যাটার্জি সিং নামের ওই আইনজীবী বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শিলিগুড়ি সাইবার থানায় এই অভিযোগটি দায়ের করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী রিঙ্কি চ্যাটার্জি সিং দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা কিছু প্রকাশ্য বক্তব্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতি উসকানিমূলক ও মানহানিকর ছিল। খবর সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের।
রিঙ্কি সিং তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন জনসভা, রাজনৈতিক মঞ্চ এবং গণমাধ্যমের সাথে আলাপচারিতায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বেশ কিছু উসকানিমূলক ও উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি জনসমক্ষে এই ধরনের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সততা, নিরপেক্ষতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের মনে অবিশ্বাস ও অসন্তোষ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে।’
অভিযোগটিতে গত ২ জুন একটি রাজনৈতিক মঞ্চে করা বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং এক্ষেত্রে আইনের প্রযোজ্য ধারা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা ও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ‘গত ২ জুন (মঙ্গলবার) রানী রাসমণি স্মরণে একটি রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেন যে, ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে তাঁর গোপন আলোচনা হয়েছিল এবং তিনি প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সাথে ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জড়িয়ে আরও কিছু অভিযোগ তোলেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবমূর্তি ও নির্ভরযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার এবং দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে শত্রুতা তৈরি করার স্পষ্ট উদ্দেশ্যে এই ধরনের অভিযোগ জনসমক্ষে এবং গণমাধ্যমের সামনে খোলামেলাভাবে করা হয়েছে।’
এর আগে এক সপ্তাহ আগে, গত বছর কলকাতায় একটি ঈদ উৎসবে যোগ দেওয়ার সময় সনাতন ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল।
আইনজীবী রিঙ্কি চ্যাটার্জি সিং কর্তৃক শিলিগুড়ি সাইবার থানায় দায়ের করা ওই অভিযোগে দাবি করা হয়েছিল যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য সনাতন ধর্মের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী রিঙ্কি সিং দাবি করেন যে, তৃণমূল সুপ্রিমো সনাতন ধর্মকে ‘গান্দা ধর্ম’ (নোংরা ধর্ম) হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, যা কোটি কোটি অনুসারীদের ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসকে গভীরভাবে আঘাত করেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি ইঙ্গিত করেছিলেন যে যদি একটি বিশেষ সম্প্রদায় হিন্দুদের ওপর আক্রমণ করে, ‘তবে তাদের ১২টা বেজে যাবে’।
আইনজীবী সিং তাঁর আবেদনে যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এই ধরনের মন্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল ‘ভয় ও ভীতির মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা’ এবং ‘সামাজিক অশান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা।’
More Stories
ব্রিকস সম্মেলনে মোদি-পুতিন-শি জিনপিং হাতে হাত রাখলেন, ঐক্যের বার্তা
ভারতের নয়াদিল্লিতে চলছে দুই দিনব্যাপী ব্রিকস সম্মেলন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সম্মেলনের এক পর্বে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির...
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য নেই: জয়সোয়াল
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেবেন কিনা, সে বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন...
দিল্লিতে আ.লীগ নেতা বক্তা থাকা সেমিনারের অনুমতি দেওয়া হয়নি
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে ‘নতুন বিতর্ক এড়াতে’ ভারতের নয়াদিল্লিতে একটি সেমিনার শেষ মুহূর্তে বন্ধ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ফরেন করেসপন্ডেন্টস’ ক্লাব...
তারেক রহমানের সফরের জন্য কেন এত উদগ্রীব ভারত: বিবিসির প্রতিবেদন
চলতি মাসের শুরুতে ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পাঠানো খুব সাধারণ একটি ই-মেইল কূটনীতিক ও সাংবাদিকদের নজর কেড়েছিল, ওই ই-মেইলে বলা...
‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ প্রসঙ্গে জয়সোয়াল: ‘বাংলাদেশের অবস্থানের দিকে নজর রাখছে ভারত’
সাম্প্রতিক সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ এবং বাংলাদেশের তাতে যোগদানের বিষয় নিয়ে নিজেদের অবস্থান...
বাংলাদেশি শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবেন অমিত শাহ
‘ধর্মীয় নিপীড়নের’ কারণে যারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) অধীনে আবেদন করেছেন, তারা আগামী ছয় মাসের মধ্যেই...
