Read Time:5 Minute, 54 Second

নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার হতাশার সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে যুক্ত করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরেকে পাঠানো এক ব্যতিক্রমী চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, আটটি যুদ্ধ থামানোর পরেও তাকে নোবেল পুরস্কার না দেওয়ায় তিনি আর কেবল ‘শান্তি’ নিয়ে ভাবতে বাধ্য নন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী। চিঠিতে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি আটটি যুদ্ধ বন্ধ করলেও আপনার দেশ আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়নি। তাই আমি এখন আর শুধু শান্তি নিয়ে ভাবার বাধ্যবাধকতা অনুভব করি না।’ ট্রাম্প আরও বলেন, এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘যা ভালো ও উপযুক্ত’ তা নিয়েই ভাববেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়োনাস গার স্টোরে জানান, চিঠিটি এসেছে তার পাঠানো একটি সংক্ষিপ্ত বার্তার জবাবে। বার্তাটি তিনি পাঠিয়েছিলেন নিজের এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাবের পক্ষ থেকে।

উল্লেখ্য, নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করে নরওয়ের নোবেল কমিটি। এটি পাঁচ সদস্যের একটি বেসরকারি সংস্থা, যার সদস্যরা নরওয়ের পার্লামেন্ট দিয়ে মনোনীত হলেও সরকারের থেকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়।

গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্য জোরালো প্রচারণা চালান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পুরস্কারটি দেওয়া হয় ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে। তিনি গত মাসে অসলোতে পুরস্কার গ্রহণ করেন এবং পরে সেটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেন। গত সপ্তাহে নিজের পদকও ট্রাম্পকে দেন মাচাদো।

ইয়োনাস গার স্টোরে বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, যা সবারই জানা—নোবেল পুরস্কার একটি স্বাধীন নোবেল কমিটি প্রদান করে, সরকারের কোনো ভূমিকা নেই।’

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনা
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্র ‘যে কোনো উপায়ে’ নিয়ন্ত্রণে নেবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘এখনই সময় এবং এটি করে ফেলা হবেই!!!’

এ অবস্থায় গত শনিবার ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি না দেওয়া হলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

ওয়াশিংটনের এই অবস্থানের জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিকরা রোববার জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে পাল্টা শুল্ক আরোপ ও আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।

স্টোরেকে পাঠানো চিঠিতে ট্রাম্প দাবি করেন, ডেনমার্ক রাশিয়া বা চীনের হাত থেকে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারবে না। তিনি লেখেন, ‘ডেনমার্কের মালিকানার অধিকারই বা কোথায়? কোনো লিখিত দলিল নেই, কেবল কয়েকশ বছর আগে একটি নৌকা সেখানে গিয়ে ভিড়েছিল—এটুকুই ইতিহাস।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ন্যাটো প্রতিষ্ঠার পর থেকে অন্য যে কারও তুলনায় তিনি জোটটির জন্য বেশি কাজ করেছেন, আর এখন ন্যাটোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কিছু করা। তার মতে, ‘গ্রিনল্যান্ডের ওপর সম্পূর্ণ ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে বিশ্ব নিরাপদ নয়।’

গ্রিনল্যান্ড একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও খনিজসম্পদ সমৃদ্ধ দ্বীপ। ডেনমার্ক ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় দ্বীপটি এই দুই সংস্থার নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় রয়েছে। তবুও ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহার করে গ্রিনল্যান্ড দখলের আশঙ্কা নাকচ করেননি, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post ভোটের আগে চাঙা রেমিট্যান্স, ১৮ দিনে এলো দুই বিলিয়ন ডলার
Next post ‎শাহজালালের মাজার জিয়ারত করলেন তারেক রহমান
Close