হাবিবুর রহমান ইমরান :

ক্যালিফোর্নিয়ায় আওয়ামী লীগ ও তার সকল অঙ্গ সংগঠন, তথা নেতৃত্বের দ্বন্দে খন্ড-বিখন্ডিত বিশাল আওয়ামী পরিবারকে একত্রীত করার সুবর্ন একটি সুযোগ এসেছিলো আওয়ামী নেত্রীবৃন্দদের হাতে। তবে হলো কি কোন সুরাহা ..? মিটলো কি মহা মিলনের সেই আশা, কোথায় ..? যেখানে সরিষার মধ্যেই ভুত, ভূতটা তাহলে তাড়াবে কে? আর আমরা কি বা আশা করবো এই সকল গন্য মান্য  বিভক্তি ও পদ  প্রিয় নেত্রীবৃন্দের কাছ থেকে?

না, আমি অন্তত আশায় বুক বেঁধে রাখিনি, কারন সবার মতো আমার ও চেনা/জানা ছিলো তিনারা কারা যারা চায় না আওয়ামী পরিবার এক হয়ে একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিনত হোক এই লস এঞ্জেলেসে।

ঘরের মধ্যে ঘর, তাহার ভিতর আরো ঘর তৈরি করেই নিজেদের নেতৃত্বকে টিকিয়ে রাখাটাই যে তাদের প্রধান কাজ। আর তিনারা আমাদের মতো নতুন প্রজন্মের কাছে অতি পরিচিত ও অনেক সম্মানিত নেতা/মহা-নেতা। আমরা তাদের কল্পনা/পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত আছি।

কেন্দ্রীয় নেত্রীবৃন্দের আগমন উপলক্ষে, কর্মসুচী বাগিয়ে নেওয়া ও অন্যের কর্মসুচীকে বানচাল করার যে নোংরামির চেষ্টা, বরাবরের ন্যায় এবার ও তার বত্যয় ঘটেনি, যা কিনা ঘটেছিলো মাননীয় শিল্পমন্ত্রী জনাব আমির হোসেন আমু, মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও বাংলাদেশ আওয়ামিলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জনাব আমিনুল ইসলাম এর আগমনে। তবে এবার যে সফল হবেন সেটাতো বলাই বাহুল্য, শুধু নামটা শুনলেই বোঝা যায় ডা: দীপু মনি…. কি সবাই ক্লীয়ার তো ? পার্থক্যটা শুধু ছিলো আওয়ামিলীগ মুল দলের সমর্থন কারি কর্মী বা গ্রুপদের।

ও হ্যাঁ তবে আমাদের শ্রদ্ধেয় নেত্রীবৃন্দরা ও তাদের তোষামোদকারী রা যে এভাবে ঝাড়ি খাবেন সেটা অন্তত কেউ আশা করে নাই। এ ব্যাপারে সকলেই জ্ঞাত।

একটা সময় যারাই পরম বন্ধু ও অত্যন্ত নিবেদিত কর্মী ছিলো, তাঁরাই এখন চরম অবহেলিত আর তাদের ভাষায় কথিত বিদ্রোহী। আর একটা সময় যারাই অনেক বাজে বাজে মন্তব্য করে অপমানিত করার চেষ্টা করেছে প্রতিনিয়ত তাঁরাই এখন ডান/বাম হাত হা হা হা…এ যেন এক জীবন্ত সার্কাস।

বি:দ্র : সকল প্রমানাদি সংরক্ষিত আছে প্রয়োজনে প্রকাশ করা যেতে পারে, তবে প্রকাশ্যে।

লস এঞ্জেলেসে বসবাসরত হাজারো প্রবাসি বাংলাদেশী, যারা কিনা বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের চেতনায় ও আস্হা রাখেন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেত্রীত্বে।তাদের প্রত্যেকেরই দির্ঘ দিনের একটাই চাওয়া, আওয়ামী পরিবার এর সকলকে একত্রীতকরনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশী বিশাল জনগোষ্ঠির বসবাস এই ক্যালিফোর্নিয়ায় আওয়ামিলীগ এর একটি শক্তিশালী ঘাঁটি তৈরি হোক, যা কিনা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে অত্যন্ত সন্নিকটের আগামির নির্বাচনে।

আগামি জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামিলীগ কে পুনরায় নির্বাচিত করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অদম্য দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাওয়া, বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে সমুন্নত রাখতে ঐক্যের যে কোন বিকল্প নেই তা কারোরই অজানা নয় যা কিনা উল্যেক্ষিত হয়েছে ডা:দীপু মনি এমপি ম্যাডাম এর বক্তিতায়।

আপনার আমার সকলের প্রিয় মাতৃভূমি সোনার এই বাংলাদেশ, দেশ প্রেমে উজ্জিবীত আওয়ামী লীগ এর জয় রথের মধ্য দিয়ে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশে পরিনত করতে ও সার্বিক উন্নয়নে যে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার বিকল্প নেই সে কথা তো সকলেরই জানা।

তার পরও কেন এত বিভক্তি কেনই বা এতো নোংড়ামী, নেতৃত্বে থাকতে চান থাকুন না, তবে অন্তত কর্মীদের একত্রিত করে রাখুন বিভক্তি নয়, তা না হলে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ও তার প্রানের সংগঠনকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্রের দায় কি এড়ানো সম্ভব হবে, তিনি তো সবই জানেন খবর রাখেন আর না জানলে ও হয়তো জেনে যাবে। তখন কি হবে, দায় কি এড়ানো যাবে ? গেলে তো ভালো। না কি সকল প্রয়োজন তার আগেই শেষ হয়ে যাবে ? তাহলে তো হয়েই গেলো। সকল ইনভেস্টমেন্ট উঠে আসবে তো এক নিমিষেই।

প্রিয় নেত্রীবৃন্দ আপনারা তো আমাদের নিকট অনেক সম্মানিত  ও শ্রদ্ধাভাজন, এই প্রবাসে USA তে যে কেউ কাউকে তোয়াক্কা করে চলে না সে কথা সকলেরই জানা। কে কাকে অনুমোদন দিলো বা না দিলো আর কে বৈধ বা অবৈধ তাতে কারো কিছুই আসে যায় না, যে যতো লোকসমাগম ঘটাতে পারে সেই ততো কর্মসূচী পালন করতে পারে, যার প্রমান রেখেছে আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগ, ক্যালিফোর্নিয়া শাখা। আওয়ামিলীগ এর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের চেয়ে তারা যুবলীগের সম্মিলিত অংশগ্রহনে অনেক বেশি লোকের সমাগম ঘটিয়েছেন। হ্যাঁ তবে তারা তাদের অনুষ্ঠানস্থলকে  ছবির গ্যালারিতে পরিনত করতে পারে নাই, যেটা পরিলক্ষিত হয়েছে আওয়ামিলীগ এর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।

তাহলে কেনোইবা এতো পদের বড়াই, who actually care if you are a president or secretary of AL in this country? None of us.

উদ্যোগ তো নিতেই হবে কাউকে না কাউকে, শুরুটা না হয় হলো আপনার হাতে, আমরা সবাই আছি সাথে।

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।