ফিরোজ আলম
জাকির হোসেনের বাড়ি চট্টগ্রাম পতেঙ্গা। কাজ করত মালবাহী জাহাজের ওয়েল্ডিং ম্যান হিসাবে। বছর দুই আগে তার জাহাজ এসে ভিড় করে লস এঞ্জেলেসের লংবিচ পোর্টে। অনুমতি নিয়ে জাহাজ থেকে নেমে পরে আর জাহাজে ফিরে যায়নি। আমেরিকার স্বপ্নের টানে লস এঞ্জেলেসে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে। আশ্রয় নেয় ইলিয়াস নামে এক দুসষ্পর্কের আত্মিয়ের কাছে, চাকরি জুটিয়ে নেয় সেভেন ইলেভেন স্টোরে।
এদিকে জাহাজ কতৃপক্ষ ক্রু মিসিং দেখিয়ে কতৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করে। পুলিশ জাকিরকে খুঁজে পায় কিন্তু কর্মস্থল থেকে জাকিরকে গ্রেফতার করা থেকে বিরত থাকে। শোভাকাঙ্খীদের পরামর্শে জাকির আইনজীবীর মাধ্যমে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করতে গিয়ে গ্রেফতার হয় জাহাজ কতৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে। ঐ সময় জাকিরকে মুক্ত করতে তার চাকরিদাতা সেভেন ইলেভেনের মালিক দুই হাজার ডলার অর্থ সাহায্য দেয়। আইনজীবী জাকিরের মামলা পরিচালনা এবং মুক্তির জন্য পাঁচ হাজার ডলারে চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু জাকিরের কোনো টাকা পয়সা দেবার ক্ষমতা ছিল না। জাকিরের এই প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে আসেন কমিউনিটির সবার প্রিয় মোমিনুল হক বাচ্চু এবং মুনার লস এঞ্জেলেসের সভাপতি আব্দুল মান্নান। এই দুজনের প্রচেষ্টায় আরো আড়ায় হাজার ডলার সংগ্রহ করা হয়।

কিন্তু আদালত জাকিরের রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রার্থনা এবং জামিন দুটোই প্রত্যাখ্যান করেন। জাকিরের এ বিষয় নিয়ে তৎকালীন সময় দৈনিক জাগো নিউজ একটি রিপোর্ট করে।
জাকিররের বহিষ্কার আদেশ যখন প্রক্রিয়াধীন, তখন বাঙালি কমিউনিটিতে পরিচিত ভারতীয় আইনজীবী এমি ঘোষ তার মুক্তির ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হোন দ্বিতীয় দফায় এবং দোভাষী হিসাবে এক বাংলাদেশী চুক্তিবদ্ধ হন। এবারও জাকিরের জন্য অর্থ সংগ্রের দায়িত্ব নেন মোমিনুল হক বাচ্চু এবং আব্দুল মান্নান। দ্বিতীয় দফায় জাকিরের জন্য কমিউনিটি থেকে ষোলশত ডলার সংগ্রহ করা হয়। দ্বিতীয় দফায় অর্থ সংগ্রহে জাকিরের জন্য ইলিয়াস, মানিক, রফিক, সেন্টু, হুমায়ুন মিলে প্রায় পাঁচশত সত্তর ডলার দেন।
কিন্তু জাকিরের জন্য কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয়নি। আইনি যুদ্ধে হেরে গিয়ে অবশেষে তার বিদায় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বহিষ্কার পত্রে স্বাক্ষর করে দিয়েছে । অথচ জনৈক ব্যক্তি ফেসবুকে লাইক কমেন্টের বাহবা নেবার জন্য কমিউনিটির লিডারদের দোষরোপ করে নিজের মানবিকতার ঢোল পিটাচ্ছেন। প্রকৃত সত্য হলো জনধিকৃত এই ব্যক্তির জাকিরের মুক্তি প্রক্রিয়ায় কোনো ভূমিকা নেই।