Read Time:5 Minute, 9 Second

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান গত শনিবার পদত্যাগ করেন। এরপর সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কিন্তু আন্দোলন থামতেই একাধিক রাজ্যে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট দেওয়া ব্যক্তিদের খোঁজা হচ্ছে। সেই সঙ্গে পোস্ট ও ভিডিও অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গসহ একাধিক রাজ্যে নিট (দ্য ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কম এন্ট্রেন্স টেস্ট (NEET) ভারতের স্নাতক মেডিকেল ভর্তি জন্য একমাত্র প্রবেশিকা পরীক্ষা) আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড়ে সিজেপি উদ্বিগ্ন। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের দেওয়া প্রতিশ্রুতি সরকারকে মনে করিয়ে দিয়েছেন তারা।

সোমবার একটি বিবৃতিতে সিজেপি জানায়, যেসব রাজ্যে নিট বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কারণে পুলিশ ধরপাকড় চালিয়েছে, সেখানে আটকদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগও শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবারের মধ্যে আটকদের মুক্তি দিয়ে এফআইআর তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সিজেপি।

সংগঠনটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস সোমবার সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। এতে লেখা হয়েছে, ‘বিভিন্ন রাজ্যে, বিশেষত আসাম, পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারে শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। তাদের আটক করা হচ্ছে, কোথাও কোথাও গ্রেপ্তারও দেখানো হচ্ছে। কোনো রাজ্যে কোনো আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে এখন অথবা ভবিষ্যতে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে না– কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আমরা এই আশ্বাস পেয়েছিলাম। তার পরেই আন্দোলন প্রত্যাহার করি। এখন ধরপাকড়ের খবরে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।’

জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহকে প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে সিজেপি। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, আটকদের যাতে অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে যেন প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ না করা হয়, সেই নির্দেশ দিতে হবে। এফআইআরও প্রত্যাহার করতে হবে।

নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্যসংবলিত পোস্ট এবং ভিডিও অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। জেন-জি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং গত ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এসব পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে বলে সোমবার পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দিল্লি পুলিশের ভাষ্য, যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং পরে দিল্লিতে সংঘর্ষের সময় বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় লেখা একাধিক পোস্ট ও ভিডিও প্রকাশ হয়। এসব কনটেন্ট শনাক্ত করতে পুলিশের সামাজিক মাধ্যম পর্যবেক্ষণকারী দল নিয়মিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো পর্যবেক্ষণ করছে।

আপত্তিকর কোনো পোস্ট বা ভিডিও শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সামাজিক মাধ্যম কর্তৃপক্ষকে নোটিশ পাঠিয়ে তা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি পোস্ট ও ভিডিও নোটিশের পর সরিয়ে ফেলা হয়েছে। খবর এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমসের।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post ভারতের শক্তিশালী ভোটার ব্লক হওয়ার পথে জেন জি
Next post স্বাধীন গণমাধ্যম নীতিমালা তৈরিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী
Close