Read Time:6 Minute, 15 Second

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের পর এবার তিনি উল্টো প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না থাকার কথাও বলেন তিনি।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি কাউকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি। আশুগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দেখানো বৃদ্ধাঙ্গুলির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এমন ভঙ্গি দেখিয়েছি। আমার একটিমাত্র অপরাধের জন্য (যদি হয়ে থাকে) তিনবার শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এমন একটি প্রশাসনের অধীনে আমি কীভাবে নির্বাচন করব, যারা অলরেডি বায়াসড?’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের নামে সমাবেশ করছেন, স্টেজ বানিয়ে মাইক ব্যবহার করছেন, গরু জবাই করে আপ্যায়ন করছেন এবং তার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দিচ্ছেন। অথচ এসবের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

তিনি জানান, সোমবার সকালে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে গিয়ে জানতে চেয়েছিলেন কার বিরুদ্ধে কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে, কিন্তু তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর পাননি।

এদিকে, রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক রুমিন ফারহানাকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন। রবিবার রাতে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় তার অনুপস্থিতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

শোকজ নোটিশ প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক থেকে পেয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে তার আইনজীবী গিয়ে জবাব দেবেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের প্রচার শুরুর আগে রিটার্নিং অফিসার এ ধরনের চিঠি দিতে পারেন না এবং এ বিষয়ে আচরণবিধির বিভিন্ন তথ্যও তুলে ধরেন।

অন্যদিকে, রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অভিযোগ করে তা নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং সিনিয়র সিভিল জজ আশরাফুল ইসলামের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, গত শনিবার সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামে প্যান্ডেল করে বিশাল জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়, যা নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে সমাবেশ ভেঙে দেওয়া হয় এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জুয়েল মিয়া নামে একজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ওই সময় রুমিন ফারহানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন ও আঙুল উঁচিয়ে হুমকি দেন। তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন কর্মীও মারমুখী আচরণ করেন। এতে বিচারিক কাজে বাধা সৃষ্টি ও কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও লিংকের কথাও চিঠিতে বলা হয়।

রিটার্নিং অফিসারের কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রুমিন ফারহানা ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষের উপস্থিতিতে বৃহৎ স্টেজ নির্মাণ করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। জনসভা বন্ধ করতে বললে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। এ সময় তার কর্মীরাও মারমুখী আচরণ করেন।

এর আগে রোববার বিকেলে সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ এলাকায় মতবিনিময়কালে রুমিন ফারহানা নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে ‘৫ আগস্ট’-এর কথা মনে রাখতে বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। কাউকে ডান চোখে, কাউকে বাম চোখে দেখবেন না। নিরপেক্ষতা না থাকলে সারা বাংলাদেশে যেমন ৫ আগস্ট হয়েছিল, তেমনি যেকোনো আসনেই ৫ আগস্ট ঘটতে পারে।’

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post দেশের ভাগ্য নির্ধারণী এই নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই: এনসিপিকে প্রধান উপদেষ্টা
Next post ভোটের আগে চাঙা রেমিট্যান্স, ১৮ দিনে এলো দুই বিলিয়ন ডলার
Close