Read Time:4 Minute, 17 Second

ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছেন, ‘যে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে ভারত ও বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে একাধিক যোগাযোগের চ্যানেল খোলা রয়েছে।’

মঙ্গলবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে সেনাবাহিনীর বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এক সাংবাদিক প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের যে নতুন সমীকরণ, সেটা ভারতের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী বিষয়টি কীভাবে দেখছে।

জবাবে উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, ‘প্রথমত, বাংলাদেশের ক্ষমতায় কী ধরনের সরকার রয়েছে, তা আমাদের জন্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। যদি এটি একটি অন্তর্বর্তী সরকার হয়, তাহলে দেখতে হবে তারা যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেগুলো আগামী চার-পাঁচ বছরের জন্য, নাকি কেবল আগামী চার-পাঁচ মাসের জন্য। আমাদের বিবেচনা করতে হবে– এখনই আমাদের কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজন আছে কিনা।’

ভারতের সেনাপ্রধান বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, এই মুহূর্তে তিন বাহিনীই তাদের যোগাযোগের সব চ্যানেল পুরোপুরি খোলা রেখেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক যোগাযোগের চ্যানেল খোলা রয়েছে এবং আমি সেখানে তাদের সেনাপ্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। একইভাবে, আমাদের অন্যান্য চ্যানেলের মাধ্যমেও আমরা যোগাযোগ বজায় রাখছি। আমরা সেখানে একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিলাম, যারা মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। একইভাবে, নৌবাহিনীর প্রধান এবং বিমানবাহিনীর প্রধানও কথা বলেছেন।’

জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য হলো, কোনো ধরনের যোগাযোগের বিভ্রাট বা ভুল বোঝাবুঝি যেন না হয়। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, এই মুহূর্তে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তার কোনোটিই কোনোভাবেই ভারতের বিরুদ্ধে নির্দেশিত নয়। সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়টি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভারতও তা করছে, অন্যান্য দেশও করছে। আমাদের প্রস্তুতির দিক থেকে বলতে গেলে, আমরা সেখানে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে ‘অপারেশন সিঁদুর’ প্রসঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় পাকিস্তানকে আবারও সতর্কবার্তা দেন উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তিনি জানান, অপারেশন সিঁদুর শেষ হয়নি। পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে শুরু হওয়া এই অভিযান এখনও কার্যকর রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো দুঃসাহস দেখালে তার উপযুক্ত ও কার্যকর জবাব দেওয়া হবে।

ভারতের সেনাপ্রধানের ভাষ্য, ‘অপারেশন সিঁদুর’ ছিল স্পষ্ট রাজনৈতিক নির্দেশে তিন বাহিনীর নিখুঁত সমন্বয়ের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ, যেখানে বাহিনীগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করা বা পাল্টা জবাব দেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ
Next post খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে : বার্নিকাট
Close