Read Time:8 Minute, 27 Second

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক কমিটিতে রদবদল আনা হয়েছে। ২১৭ সদস্যের কমিটি ছোট করে ১৯৬ সদস্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। আহ্বায়ক পদে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব পদে আখতার হোসেন বহাল থাকলেও বিলুপ্ত করা হয়েছে মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের মতো পদ। এর পরিবর্তে সৃষ্টি করা হয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ।

পুনর্গঠিত কমিটিতে কয়েকজন নেতার পদোন্নতি হয়েছে, আবার কয়েকজনের পদাবনতি ঘটেছে। বাদ পড়েছেন আগের কমিটির কয়েকজন নেতা। আগের কমিটিতে মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হয়েছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) পদ থেকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) পদ থেকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব হয়েছেন সারজিস আলম। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব। পাশাপাশি তাকে এনসিপির মুখপাত্র করা হয়েছে।

শুক্রবার পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা করে এনসিপি। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না দিলেও দলটির মূল নেতৃত্বে নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ থাকছেন বলে স্পষ্ট হয়েছে। তারা দলটির রাজনৈতিক পর্ষদেরও সদস্য। এই পর্ষদের তালিকায় প্রথম ছয়টি নাম তাদের।

রাজনৈতিক পর্ষদের অন্য সদস্যরা হলেন আবদুল্লাহ আল আমিন এমপি, আরিফুল ইসলাম আদীব, ড. আতিক মুজাহিদ এমপি, আবদুল হান্নান মাসউদ এমপি, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, মাহমুদা আলম মিতু এমপি ও নুসরাত তাবাসসুম এমপি।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানিয়েছেন, পুনর্গঠিত কমিটির মাধ্যমে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। সারা দেশে জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের কাজ চলছে। এসব কমিটি গঠনের কাজ শেষ হলে কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচনের জন্য সম্মেলন আয়োজন করা হবে। সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্ব দায়িত্ব নেবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সদস্য সচিব ছিলেন আখতার হোসেন। পরের বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ ছেড়ে এই সংগঠনে যোগ দেন নাহিদ ইসলাম। এর তিন দিন পর জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৭১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে এনসিপি। ওই কমিটিতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন তাসনিম জারা ও নাহিদা সারোয়ার নিভা। পরবর্তী সময়ে কমিটির সদস্যসংখ্যা বেড়ে ২১৭ হয়।

গত বছরের ডিসেম্বরে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্তের পর এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন তাসনিম জারা। একই সময়ে তাজনুভা জাবিনসহ আরও ১২-১৩ জন পদত্যাগ করেন। পদত্যাগ না করলেও দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন সামান্তা শারমিন, নাহিদা সারোয়ার নিভা ও নুসরাত তাবাসসুমসহ কয়েকজন নেতা। পরে নুসরাত তাবাসসুম আবার সক্রিয় হন এবং এনসিপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

পুনর্গঠিত কমিটিতে সামান্তা শারমিন বাদ না পড়লেও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক থেকে তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। নাহিদা সারোয়ার নিভাকে রাখা হয়েছে যুগ্ম সদস্য সচিব পদে। তবে তাদের কাউকেই রাজনৈতিক পর্ষদে রাখা হয়নি। অন্যদিকে, আগের কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব যুগ্ম আহ্বায়ক পদের পাশাপাশি রাজনৈতিক পর্ষদেও রয়েছেন।

আগের কমিটিতে থাকা সালমান জাবেদ, রফিকুল ইসলাম কনকসহ কয়েকজন নতুন কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন।

কমিটিতে নারী ও সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব
পুনর্গঠিত কমিটিতে ১৯ জন নারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন রাজনৈতিক পর্ষদে স্থান পেয়েছেন। ২৪ জন যুগ্ম আহ্বায়কের মধ্যে ছয়জন নারী। এ ছাড়া ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাঁচজন প্রতিনিধি রয়েছেন নতুন কমিটিতে।

রাজনৈতিক পর্ষদের বাইরে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন মনিরা শারমিন, ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক, মাহবুব আলম, মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, আশরাফ মাহাদী, সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক, দিলশানা পারুল, প্রীতম দাশ, সামান্তা শারমিন, ইসহাক সরকার, তারেক এ আদেল ও এ কে ফ্লোরা।

যুগ্ম সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব পেয়েছেন আলাউদ্দীন মোহাম্মদ (আন্তর্জাতিক), এস এম সাইফ মুস্তাফিজ (কোষাধ্যক্ষ), মো. নিজাম উদ্দিন, নাহিদা সারোয়ার নিভা, ফরিদুল হক ও মো. আতাউল্লাহ।

১০ সাংগঠনিক অঞ্চলে দায়িত্ব বণ্টন
দেশের ৬৪টি জেলাকে ১০টি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—ঢাকা উত্তর বিভাগে সাইফুল্লাহ হায়দার, চট্টগ্রাম দক্ষিণে এ এস এম সুজাউদ্দীন, রাজশাহীতে ইমরান ইমন, চট্টগ্রাম উত্তরে নাভিদ নওরোজ শাহ, রংপুরে ডা. মো. কামরুল ইসলাম দর্পণ, সিলেটে প্রকৌশলী কামরুল আরিফ, খুলনায় শাহরিন ইরা, বরিশালে ড. শামীম হামিদী, ময়মনসিংহে মিয়াজ মেহরাব তালুকদার এবং ঢাকা দক্ষিণে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের নিয়ে গঠিত বিদেশ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন রাফে সালমান রিফাত। প্রচার সম্পাদক হয়েছেন জয়নাল আবেদিন শিশির এবং মিডিয়া সম্পাদক হয়েছেন ইয়াসির আরাফাত।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে টোকিওতে থাকছেন না রাষ্ট্রদূত, ফেরানো হলো ঢাকায়
Next post আমাদের থামানোর সুযোগ নেই, আমরা থামব না: জামায়াত আমীর
Close