Read Time:5 Minute, 42 Second

দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক পথে ফেরাতে বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে ঢাকা ও দিল্লি। সফরের জন্য নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে ব্রিকস নেতাদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ভারত বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানালেও তারেক রহমান এতে যোগ দেননি। বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হওয়ায় ভারত তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।

এর আগে আগস্টে তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দিল্লি। তবে সেই সফর শেষ পর্যন্ত হয়নি। ওই সময় ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট একটি অডিও সংযোগের মাধ্যমে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তার বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হলে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন দেখা দেয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই তাকে একক দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানায় দিল্লি।

ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ও দিল্লিতে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। দুই দেশ এমন একটি তারিখ খুঁজছে, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়সূচির সঙ্গেও মেলে।

তারেক রহমানের সফরের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। বাংলাদেশ মনে করছে, সফরের জন্য ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি করতে হবে। এর সঙ্গে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়টি জড়িত। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকা ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায়ও রয়েছে। ভারত এখনো এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

ভারত বলছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের অনুরোধটি তারা পর্যালোচনা করছে। একইসঙ্গে দিল্লি ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলছে ভারত।

দুই দেশই শেখ হাসিনার বিষয়সহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজছে। সফরের আগে এসব বিষয়ে একটি সমঝোতার জায়গায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

এদিকে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনেও পরিবর্তন আসছে। বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানোর কথা রয়েছে। তার জায়গায় পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নতুন হাইকমিশনার করার প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে ভারতের সরকারের অনুমোদনের বিষয়টিও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগস্টে তারেক রহমানের ভারত সফর স্থগিত হওয়ার পর যে কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে দুই দেশই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্পর্ক উন্নয়নের কিছু উদ্যোগ দেখা গেলেও শেখ হাসিনার ভারত থেকে প্রকাশ্য বক্তব্যের পর আবারও পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

দুই দেশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, তারেক রহমানের ভারত সফর হলে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হবে। তাই সফরটি বাস্তবায়নে উভয় পক্ষই একটি সমঝোতার জায়গায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post বাবা-মায়ের পথ ধরে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান
Close