Read Time:4 Minute, 45 Second

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনদের প্রত্যর্পণ নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে ভারত। দেশটি বলেছে, ‘ভারত পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও অগ্রগামী সম্পর্ক চায়।’

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

রণধীর জয়সওয়াল জানান, গত ৫ আগস্ট নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করেছে তা নিয়ে ভারতের অবস্থান পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নেই। এছাড়া শেখ হাসিনা ও হাদি হত্যার সন্দেহভাজনদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়ম অনুয়ায়ী যাচাই করা হচ্ছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কোনো নতুন কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কোনো আপডেট আমার কাছে নেই।’

এর আগে গত রোববার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে উভয় পক্ষ কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ রক্ষা করছে। তবে বাংলাদেশ মনে করে, এ সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি স্পষ্ট করেন, শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ দ্রুত সম্পন্ন করতে ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদেরও প্রত্যর্পণ চাওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাবে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার ভাষণের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষোভ জানিয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চায়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তখন স্পষ্ট করা হয়, শেখ হাসিনার আয়োজনটি ছিল বেসরকারি এবং ভারত সরকারের এতে সম্পৃক্ততা নেই৷

ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, দুই দেশের অমীমাংসিত ইস্যুগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে আলোচনা করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে যাওয়ার বিষটিতে উভয় দেশের আলোচনা এখনো অব্যাহত আছে।

বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক, ইতিবাচক, স্থিতিশীল ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্ক চায়। ভারতও দুই দেশের জনগণের স্বার্থে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথা বলছে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন, সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ, ভিসা সুবিধা এবং বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের মতো বিষয়গুলোর সমাধানের লক্ষ্যে উভয় পক্ষই কাজ করছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরে দ্বিপক্ষীয় নানা ইস্যুতে অগ্রগতির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে এবং দুই দেশের জনগণের স্বার্থে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতেই মূল জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের তারিখ ঘোষণা করেনি।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে আমার কাছে নতুন তথ্য নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
Next post হরমুজ প্রণালিকে ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ উল্লেখ করে ট্রাম্পের মানচিত্র প্রকাশ
Close