জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের সীমান্তে কিছু সমস্যা আছে। আমাদের দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ, বিজিবির পাশে আমাদের গোটা দেশবাসী আছেন। আমরা সব ধরনের আধিপত্যবাদকে রুখে দিতে পারবো। শুধু প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যের। জাতীয় স্বার্থের জায়গায় সরকারি কিংবা বিরোধীদল—সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমাদের লড়াই হবে সব অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে। নতুন, পুরাতন ফ্যাসিবাদ বুঝি না, যেখানেই ফ্যাসিবাদ সেখানেই প্রতিরোধ, সেখানেই প্রতিবাদ করা হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন ও সংস্কারের জন্য সংস্কার পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জনগণ একই দিনে দুটি ভোট দিলেও একটি ভোটের মূল্যায়ন করা হলো। আরেকটি ফেলে দেওয়া হলো। অথচ কোনোটিই অগুরুত্বপূর্ণ নয়।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘শাসনের যে ধারা অতীতে শাসকদের ফ্যাসিবাদী করে তুলেছিল, জনগণ চেয়েছিল সেই ধারার পরিবর্তন হোক। এই পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক সংস্কার অপরিহার্য। দীর্ঘদিন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে গুরুত্বপূর্ণ ৩১টি রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে মাসের পর মাস সংলাপের পর জুলাই সনদ তৈরি করলো। তার ভিত্তিতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। আফসোস! বর্তমান সরকারি দল প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করলো। ফলে কোনো পরিবর্তন আসল না।’
তিনি বলেন, ‘সরকার এরই মধ্যে সব মৌলিক বিষয়কে অগ্রাহ্য করেছে। তারা স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন, স্বাধীন গুম কমিশন ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চাচ্ছেন না। ফলে যে জায়গাগুলোর কারণে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল সেসব আগের জায়গায় থেকে গেল। জনগণ আজ শুধু হতাশ নয়, ক্ষুব্ধও। তাদের ভোটের মূল্যায়ন কেন করা হলো না? নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারি ও বিরোধী দল বলেছে আমরা গণভোট মানি, আপনারা গণভোটে হ্যাঁ বলুন। যারা এ আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন, তাদের প্রায় ৭০ ভাগ ভোট অগ্রাহ্য হবে কেন?’
দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা অনেক ত্যাগ ও কোরবানি স্বীকার করেছেন। হয়তো আরও ত্যাগ, কোরবানির জন্য আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। কেউ যদি আমাদের ন্যায্য অধিকার না দেয়, আমরা চুপ করে বসে থাকবো না। সেই অধিকার আদায়ে আমাদের লড়াই চলবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা ন্যায় ও কল্যাণের ওপরে দেশের স্বার্থে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে আমাদের ভূমিকা থাকবে, দেশবাসী ততদিন আমাদের দোয়া ও সহযোগিতা করবেন এবং পাশে থাকবেন। প্রয়োজনে সমালোচনা ও প্রতিবাদও করবেন, আমরা স্বাগত জানাব।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘জনগণের দেওয়া রায় সরকারি দল অগ্রাহ্য করলেও আমরা বিরোধী দল অগ্রাহ্য করব না। এজন্য বিষয়টি নিয়ে জনগণের কাছে এসেছি। এরই মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ দাবি কোনো দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য। এ রায় দিয়েছে জনগণ, জনগণের স্বার্থেই এ রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।’
দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিজের অধিকার আদায়ে অনড় থাকুন। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনারাও আমাদের সঙ্গে থাকবেন, ইনশাআল্লাহ।’
More Stories
জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হয়। সাধারণ মানুষকে অভাবের মধ্যে রেখে কিংবা তাদের...
পার্বত্য অঞ্চল ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, সতর্ক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পার্বত্য অঞ্চল ও পাহাড় ঘিরে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এই পরিস্থিতি দৃঢ়ভাবে...
নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে
যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত এবং অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে বাংলাদেশ ও...
হেফাজত আমিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবস্থিত আল-জামিয়াতুল...
অতীতের মতো ‘গুপ্তবাহিনী’ বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
অতীতের মতো আবারও ‘গুপ্তবাহিনী’ বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং জনগণের কাছে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী...
সরকার সব প্রতিষ্ঠানেই হস্তক্ষেপ করছে: জামায়াত আমির
সরকার দেশের সব প্রতিষ্ঠানে রাজনীতিকরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। রোববার (৯ আগস্ট)...
