Read Time:4 Minute, 1 Second

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, অনুকূল পরিবেশের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ভারত সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ এখন থেকে বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত নিজস্বভাবে নেবে। কোনো দেশ কখন সফর করা হবে তা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ ও দ্বিপাক্ষিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে।

শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হচ্ছে বাস্তব প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে, কোনো বাহ্যিক চাপে নয়। কোনো দেশে যাব, তা নির্ধারণ করব তখনই, যখন আমরা মনে করব সংশ্লিষ্ট দেশে দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে যাওয়া প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো বড় দেশগুলোতে সফরের সিদ্ধান্তের প্রশ্নে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘যখন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রয়োজন হবে, তখন যাব। যখন চীন যাওয়ার দরকার হবে, আমরা সেখানে যাব। সময় ও পরিস্থিতি অনুকূল হলে এবং প্রয়োজন হলে আমরা ভারতেও যাব। মধ্যপ্রাচ্যেও সফর হবে। সবকিছুই জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। আমরা কোথায় যাব, সেটা অন্য কেউ নির্ধারণ করবে না। কারণ আমরা বৈধ সরকার, জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার। আমরা এখন শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলতে পারি, দর-কষাকষি করতে পারি। গত ১৫ বছরে কোনো সরকার তা পারেনি, কারণ জনগণের আস্থা ও বৈধতা তাদের ছিল না।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো একক দেশ বা বাইরের বয়ান দ্বারা প্রভাবিত নয় জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘কেউই আমাদের বলে দেবে না কখন বা কোথায় আমাদের যেতে হবে।’

বাংলাদেশ এখন একটি স্বাধীন বৈশ্বিক খেলোয়াড় হিসেবে কাজ করছে এবং জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে ‘সফট পাওয়ার’ বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। হুমায়ুন কবির বলেছেন, গত কয়েক বছরে পরাধীনতার নীতি দেখেছেন। এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বাধীন অবস্থান থেকে কাজ করছি।

মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে এবং তা সফল হবে।

মালয়েশিয়া সফর গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেছেন, মুসলিমপ্রধান দেশে প্রথম সফরগুলোর একটি এবং সেখানে আসিয়ান সদস্যপদ ও শ্রমবাজার প্রসঙ্গে আলোচনা হবে। অন্যদিকে চীন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এখন সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার এটি, যেখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চলছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা
Next post যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে পস্তাতে হবে না: ক্রিস্টেনসেন
Close