Read Time:5 Minute, 30 Second

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায় না। ১৯৭৫ সালের একদলীয় বাকশালের সময়ও যায়নি, আর বিগত ১৫ বছরের ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের দুঃশাসনেও তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে।’

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাকশাল শাসনামলের সময় চারটি সংবাদপত্র রেখে বাকিগুলো বিলুপ্ত করে দেওয়া নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৬ জুন সংবাদপত্র বন্ধের যে কালো অধ্যায় রচিত হয়েছিল, তা যেন আমাদের রাষ্ট্রীয় জীবনে আর কখনো ফিরে না আসে, আজকের দিনে সেটিই আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’

বর্তমান সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সরকার প্রচেষ্টা চালালেও অন্যদিকে কিছু কর্পোরেট মিডিয়া হাউসের মালিকরা অন্যায়ভাবে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ ও প্রযুক্তির অনেক কিছু পাল্টালেও আমাদের সকল সাংবাদিক ভাইয়ের কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট সুযোগ সৃষ্টি করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

‘দৈনিক বাংলা’, ‘বাংলাদেশ টাইমস’ এবং জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’ পুনরায় চালু করার জোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের একজন যোগ্য তথ্যমন্ত্রী আছেন। আমি আশা করব তিনি এই ঐতিহ্যবাহী বন্ধ মিডিয়া হাউসগুলো চালু করতে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টা চালাবেন। প্রয়োজনে অংশীজনদের সাথে নিয়ে নতুন নতুন গণমাধ্যমের ক্ষেত্র তৈরি করে সাংবাদিকদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা করবেন।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গতকাল আমাদের প্রেসক্লাবের সভাপতিকে সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। এটি কোনো সভ্যতার মধ্যে পড়ে না, আমি এই অন্যায়ের তীব্র ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছি এবং সাংবাদিক সমাজকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিএনপির দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে দলের মহাসচিব বলেন, বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়, এটি একটি লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক বা উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল। বিএনপি সবসময় ভিন্নমত সহ্য করার রাজনীতি করে। ফলে এটিই দেশের সবচেয়ে নিরাপদ রাজনৈতিক দল, যেখানে সাংবাদিক ও অন্যান্য পেশাজীবীরা সবসময় সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকতে পারেন। অতীতে বিএনপি যখনই সরকারে এসেছে, দেশে সাংবাদিক নির্যাতন সবচেয়ে কম হয়েছে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজে’র মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও বাংলা ভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মারুফ কামাল খান সোহেল প্রমুখ।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে না জামায়াত জোট
Close