Read Time:6 Minute, 13 Second

ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান ধনকুবের রবিন খুদা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ক্লাউড কম্পিউটিংখাতে ভারতে বিশাল বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে তার কোম্পানি।

এই ঘোষণার পরই বাংলাদেশের গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। তাকে নিয়ে চলছে আলোচনা। কারণ তার জন্ম ও প্রাথমিক শিক্ষা বাংলাদেশেই।

রবিন খুদার জন্ম ঢাকায়। তিনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগর গভার্নমেন্ট হাই স্কুলে ও এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজে পড়াশোনা করেছেন।

রুবিন খুদা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে স্ত্রী, দুই কন্যা ও বাবা-মাকে নিয়ে বসবাস করছেন। তবে তার পারিবারিক শেকড় বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার ছাতিয়ানতলী গ্রামে।

রবিন খুদার বাবা এস এম ওয়াজেদ আলী উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার জন্য ঢাকায় আসেন। পড়াশোনা শেষে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। বাবার কর্মসূত্রেই রবিন খুদার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়।

১৯৯৭ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর রবিন খুদা উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে তিনি সিডনি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

সিডনিতে ছেলের জীবন স্থিতিশীল হওয়ার পরের বছর তার বাবা-মাও অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। পরে তার বাবা এস এম ওয়াজেদ আলীও সেখানে কর্মজীবন শুরু করেন।

পেশাজীবনের শুরুতে রবিন খুদা টেলিযোগাযোগ ও ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে কাজ করেন। তিনি সিংটেল ও ফুজিটসুতে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পাইপ নেটওয়ার্কের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) এবং এরপর নেক্টডিসির সিএফও হিসেবেও কাজ করেন।

এরপর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন এয়ারট্রাঙ্ক, যা অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ডেটা সেন্টার অপারেটরে পরিণত হয়।

রবিন খুদার নেতৃত্বে এয়ারট্রাঙ্ক আজ বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল ডেটা সেন্টার কোম্পানিগুলোর একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রযুক্তি অবকাঠামো খাতে তার সাফল্য তাকে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ব্যবসায়ীদের কাতারে স্থান করে দিয়েছে এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তাদের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ তৈরি করেছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোম্পানিটি দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়া, হংকং, জাপান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও সিঙ্গাপুরে আধুনিক ডেটা সেন্টার স্থাপন করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনীদের মধ্যে রুবিন খুদার অবস্থান ৩৮তম। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সিডনি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অর্থ দিয়ে আগামী দুই দশকব্যাপী একটি বিশেষ কর্মসূচি পরিচালিত হবে, যার লক্ষ্য তরুণীদের এসটিইএম শিক্ষায় উৎসাহিত করা এবং তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করা।

সিডনি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মতে, এটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসেই নয়, বরং নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের ইতিহাসেও কোনো একক ব্যক্তির দেওয়া সবচেয়ে বড় দাতব্য অনুদান।

জানা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে তিন লাখ কোটি রুপি (প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করবে রবিন খুদার প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তির জোয়ারকে কাজে লাগাতেই এই মেগা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা প্রাইভেট ইকুইটি ফার্ম ‘ব্ল্যাকস্টোন’ এই প্রকল্পে এয়ারট্রাংককে অর্থায়ন ও সহযোগিতা করছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে রবিন খুদার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর গত শুক্রবার (৫ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। এয়ারট্রাংক জানিয়েছে, তারা পুরো ভারতজুড়ে প্রায় পাঁচ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ডেটা সেন্টার অবকাঠামো গড়ে তুলবে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
Close