Read Time:4 Minute, 33 Second

শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে নতুন করে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। শ্রমিকদের জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার অভিযোগে বিশ্বের ৬০টি অর্থনীতির ওপর এই শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয় (ইউএসটিআর) প্রস্তাব দিয়েছে। বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইউএসটিআর বলেছে, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রম বন্ধের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, সেসব দেশের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু দেশের ওপর নতুন এই শুল্ক সাড়ে ১২ শতাংশের বেশি হবে। আর বাংলাদেশের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে ইউএসটিআর। তবে সংশ্লিষ্ট সব দেশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রয়টার্স বলছে, বাণিজ্যে বৈষম্যমূলক আচরণের ৩০১ ধারার ওপর ভিত্তি করে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তবে এটির মাধ্যমে মূলত ট্রাম্পের জরুরি শুল্ক কাঠামোকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর ক্ষমতায় এসেই বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেন। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির আদালত এ শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেন।

সেই সময় আদালত বলেছিল, ১৯৭৭ সালের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ঢালাওভাবে কোনও শুল্ক আরোপ করতে পারে না। এরপর ট্রাম্পের সরকার আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে।

কিন্তু তার আগেই এখন নতুন কৌশলে শুল্ক আরোপের দিকে এগোচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইউএসটিআর বলেছে, বাংলাদেশ, কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সব দেশ, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়েতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্যের ওপর বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অপরদিকে, তদন্ত করা বাকি ৪৫টি দেশের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে বলা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, নাইজেরিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড।

বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয়ের প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী দেশগুলো যখন জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্য আমদানির বিষয়টি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়, তখন তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

তিনি আরও বলেছেন, “এর ফলে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, যেখানে মার্কিন শ্রমিকদের বিশ্ববাজারে এক অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।”

ইউএসটিআর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্ক এবং অন্যান্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হবে। এরপর ৭ জুলাই এই বিষয়ে একটি গণশুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post একটা মহল দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল
Next post দল ভেঙে চুরমার, তৃণমূল কংগ্রেসের সব কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা
Close