Read Time:3 Minute, 19 Second

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় মাদারীপুর সদরের খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

শনিবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন তার মা-বাবা ও স্বজনরা।

পরে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে মরদেহবাহী ফ্রিজিং গাড়ি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। শেষবারের মতো তাকে এক নজর দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে চলতে থাকে কবর খোঁড়ার কাজ। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দাফন শেষে বৃষ্টির রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

মেয়ের শোকে মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। বৃষ্টির চাচিকে জড়িয়ে ধরে তিনি আহাজারি করে বলছিলেন, আমার কলিজার টুকরা আমাকে ছেড়ে কোথায় চলে গেল? এখন আমি কাকে নিয়ে থাকবো। আমার বৃষ্টিকে তোমরা ফিরিয়ে দাও।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেন, ঈদে গ্রামে এসে যেন সবাই একসঙ্গে থাকতে পারি, সেজন্য বৃষ্টির পছন্দের নকশায় বাড়িটি করেছিলাম। জুলাই মাসে দেশে এসে তার এই বাড়িটি উদ্বোধন করার কথা ছিল। কিন্তু আমার মা বাড়ি উদ্বোধন না করে পরপারে চলে গেল। এখন এই বাড়িতে আমি কীভাবে থাকব। বৃষ্টির বাবার দাবি, হত্যাকারীর যেন সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।

ইউএনও ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, বৃষ্টি উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে দেশের উন্নয়নে বড় অবদান রাখতে পারতেন। তাকে যে বা যারা হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকার ও দূতাবাস মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। যেকোনও প্রয়োজনে প্রশাসন বৃষ্টির পরিবারের পাশে রয়েছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post দেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তোলাই বিএনপির নতুন চ্যালেঞ্জ : মির্জা ফখরুল
Close