Read Time:9 Minute, 24 Second

জামায়াতের কেউ রাজাকার বা আল-বদর নয় বলে দাবি করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। নোট অব ডিসেন্ট ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে ছিল না। ইসলামী ব্যাংক জামায়াতে ইসলামীর নিয়ন্ত্রিত নয় বলে দাবি করেন জামায়াতের নায়েবে আমির। তিনি প্রশ্ন তোলেন তাকে কেনো শিশু মুক্তিযোদ্ধা বলা হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গণভোট মানছে না। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ফল ভালো হবে না বলেও সতর্ক করেন।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত নেতা বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। নোট অব ডিসেন্ট ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে ছিল না। ইসলামী ব্যাংক জামায়াতে ইসলামীর নিয়ন্ত্রিত নয় বলে দাবি করেন জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ তাহের।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এসব কথা বলেছেন আবদুল্লাহ তাহের। এর আগে, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, অনেক দল আছে তাদের নাকি ব্যাংকও আছে। বিএনপির ব্যাংক নেই।
জবাবে তাহের বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক ছিল একদল সৎ ও উদ্যোগী মানুষের প্রচেষ্টার ফসল। যদি বলেন ইসলামী ব্যাংক পরিচালনায় জামায়াত নেতাদের ভূমিকা রয়েছে, তবে তা স্বীকার করি।’

ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে নোট অব ডিসেন্ট ছিল না বলে দাবি করেন ডা. তাহের। তিনি বলেন, যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তারা তাদের মত করে সংস্কার করবে, এটা কিন্তু আলোচনার অংশ ছিল না। সেটা ছিল জুলাই সনদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।

গণভোট ইস্যুতেও দ্বিমত তুলে ধরে বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, আমরা চেয়েছিলাম গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন আলাদাভাবে হবে। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে খুব জোরালোভাবে বলা হয়েছিল যে গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন এক সঙ্গে হতে হবে। তাদের দাবিতেই জামায়াতের নারাজি সত্ত্বেও গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে হয়েছিল। দেশের জন্য যা কল্যাণকর, তা বাদ দিয়ে যদি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যা ইচ্ছা তাই করতে থাকেন, তবে এ দেশ আবার পিছিয়ে যাবে।

জামায়াত পাকিস্তান গঠনের বিরুদ্ধে ছিল, এ তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাহের বলেন, একেবারেই অসত্য বক্তব্য। মাওলানা মওদুদী ছিলেন ‘দ্বিজাতি তত্ত্বের’ প্রথম প্রবক্তা। বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের সময় অবস্থান নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। আবদুল্লাহ তাহের বলেন, বেগম জিয়ার জামায়াত বিবৃতি দেয়নি বলে, যে কথা বলা হচ্ছে; তা অসত্য কথা। জামায়াত শুধু বিবৃতি নয়, তার মুক্তির জন্য রাজপথে মিছিলও করেছি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বলেন, ‘তোরা রাজাকার- তোরা আলবদর’ প্রসঙ্গেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় উপনেতা। তিনি বলেন, আজকে আমাদের রাজাকার, আল বদর বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা যারা সংসদে বসে আছি, কেউ রাজাকার বা আল-বদর ছিলাম না। যদি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বলেন, তবে আমিও একজন ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’।

আবদুল্লাহ তাহের জানান, তার বাড়ি কুমিল্লায় ভারতের সীমান্তের কাছে। যারা একাত্তরে ভারতে শরণার্থী হিসেবে যেতেন, তাদের বাড়িতে আশ্রয় নিতেন। শিশু বয়সে তাদের খাওয়াতেন। সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে কিনা, তা দেখতেন। সেনাবাহিনী দূরে থাকলে, শরণার্থীদের পথ দেখিয়ে দিতেন। সুতরাং রাজাকার আখ্যা দেওয়ার অধিকার কারো নেই।

আবদুল্লাহ তাহের আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় ‘রাজাকার’ মাওলানা নুরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় শাহ আজিজের মতো ব্যক্তিদের রাখার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সরকার ও বিরোধী দলের সমঝোতা এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে এই জামায়াত নেতা বলেন, ‘দেশের নীতির ব্যাপারে মতপার্থক্য থাকলে, আমরা বিরোধিতা করি। কিন্তু দলে দলে এই রেষারেষি, পরিবেশকে সুন্দর রাখবে না। সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

১৯৯১ সালে বিএনপিকে সরকার গঠনে সমর্থন দিয়েছিল জামায়াত। তবে দল দুটি ১৯৯৬ সালে আলাদা নির্বাচন করে। দুই দলের পথ আলাদা হওয়ার জন্য একানব্বইয়ের পর শিক্ষাঙ্গণে ছাত্রশিবিরের ওপর ছাত্রদলের হামলাকে দায়ী করেন আবদুল্লাহ তাহের। তিনি বলেন, এবারও সেরকম কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব গন্ডগোল হচ্ছে, সেদিকে নজর দিন। যারাই বিশৃঙ্খলা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত অতীতের সরকারের পরিণতি সম্পর্কে বিএনপিকে সতর্ক করেছেন বিরোধী দলীয় উপনেতা। অতীত উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন। শেখ সাহেব (শেখ মুজিবুর রহমান) নিহত হয়েছিলেন। শহীদ জিয়াউর রহমানের সময়ের ঘটনাগুলো আমাদের আতঙ্কিত করে।

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, উপমহাদেশে ভারতে ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে, পাকিস্তানে বেনজির ভুট্টোর সময়ে, বাংলাদেশে শেখ সাহেবের সময়ে, তারপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে এবং বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে আমরা অবস্থা দেখেছি এবং এর একটা ভয়ংকর পরিণতি আমরা দেখি। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েই চাই, এ ধরনের কোনো অঘটন বাংলাদেশে না ঘটুক।

বক্তব্যের শুরুতেই আবদুল্লাহ তাহের অতীতের উদাহরণ দিয়ে বলেন, আজকে যারা সরকারি দলের আসনে আছেন, তারা বোধহয় আওয়ামী লীগ থেকে এসেছেন। আর আমরা যারা এদিকে আছি, তারা বোধহয় জামায়াত-বিএনপির সংসদ সদস্য। কারণ হচ্ছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে যে ভাষায়, যে ভঙ্গিতে, যে চেতনায় জামায়াতের বিরুদ্ধে বলত এবং আচরণ করত, ঠিক আজকে সরকারি দলের পক্ষ থেকে একই ধরনের আচরণ লক্ষ্য করছি।

ডা. তাহের সরকারি দলকে স্মরণ করিয়ে দেন ৫ আগস্টের আগে বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে আন্দোলন করেছে। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সমানভাবে সংগ্রামে একত্রিত ছিলাম। অনেক সময় গোপনে একই গাড়িতে চড়ে ঘুরে ঘুরে আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনের কর্মকৌশল এবং কর্মসূচি ঠিক করেছি। আমরা সবাই তখন বলেছি, এই সংগ্রামের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের এই পতনের পর যে রাজনীতি হবে, তা হবে সুশাসনের। পুরোপুরি ঐ

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post নিজ দেশে নিপীড়নের শঙ্কার কথা বললে ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র
Close