Read Time:6 Minute, 55 Second

দু’দিনের সফরে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিল্লি যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মরিশাসের পোর্ট লুইসে ইন্ডিয়ান ওশেন কনফারেন্সে যোগদানের আগে দু’দিন তিনি ভারত সফর করবেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এই সফরে ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারা। সফর শেষে একই ফ্লাইটে মরিশাস যাবেন ড. খলিলুর রহমান ও এস জয়শঙ্কর।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনৈতিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বরফ গলার ক্ষেত্রে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে দু’দেশের কূটনীতিকরা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর এই প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের সফর হতে যাচ্ছে এটি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে যে ভাটা পড়েছিল তা থেকে বেরিয়ে নতুন এক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেয় ভারত। তারই অংশ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসেন এস জয়শঙ্কর। জানাজার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ব্যক্তিগত চিঠিও হস্তান্তর করেন।

এরপর নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদি তার প্রতিনিধি হিসেবে লোকসভার স্পিকারকে বাংলাদেশে পাঠান। ওই সময় নতুন সরকারকে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দিয়ে চিঠি পাঠান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। চিঠিতে সুবিধাজনক সময় তারেক রহমানকে পরিবারসহ ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বেশ কয়েকবার বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সুসম্পর্ক রাখতে চায় ভারত। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাতে একই কথা জানান তিনি।

প্রণয় ভার্মা বলেন, “ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ সম্পর্ক জোরদার এবং সাংস্কৃতিক ও মানুষে মানুষে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ভৌগোলিক নৈকট্যকে নতুন সুযোগে রূপান্তরিত করতে হবে।” হাইকমিশনার পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দূরদর্শী উপায়ে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে একযোগে কাজ করার আগ্রহের কথা জানান প্রধানমন্ত্রীকে।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ড. খলিলুর রহমানের সফরে জ্বালানি সহায়তা, ভারতের পর্যটন ভিসা চালু, গঙ্গা চুক্তি নবায়ন, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বাণিজ্য সম্পর্কিত ইস্যুগুলো প্রাধান্য পাবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

সূত্র বলছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৭ এপ্রিল বেলা ৩টার দিকে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সফরের প্রথম দিন সন্ধ্যায় দিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরদিন ৮ এপ্রিল তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে।

সফর শেষে ৯ এপ্রিল পোর্ট লুইসের উদ্দেশে রওনা দেবেন ড. খলিলুর। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, কনফারেন্সে যোগ দিতে একই ফ্লাইটে রওনা হবেন জয়শঙ্কর এবং খলিলুর। প্রায় ১০ ঘণ্টার ফ্লাইটে দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে পারেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক চাচ্ছি। ভারতও তাই চায়। সেই সম্পর্ক কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে সেটার একটা রূপরেখা এই সফর থেকে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, “তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন, দু’দেশ চাইলে সম্পর্কোন্নয়ন সম্ভব। আমি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফরে যাচ্ছি। এটি কোনও বিশেষ সফর নয়। আমরা মরিশাস যাচ্ছি ইন্ডিয়ান ওশান সামিটে যোগ দিতে। পথে ভারতের সঙ্গে কেবল একটি শুভেচ্ছা সফর হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যেহেতু ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের প্রয়াত নেত্রীর (খালেদা জিয়া) জানাজায় এসেছিলেন এবং তাদের লোকসভার স্পিকারও উপস্থিত ছিলেন, তাই আমরা এই সৌজন্যতাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা একটি শুভেচ্ছাসুলভ আচরণ দেখাচ্ছি। ভবিষ্যতে কীভাবে সম্পর্কোন্নয়ন করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এ সফর।”

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post সংসদে উত্তাপ ছড়ালেন পার্থ, বিরোধীদল বললো ‘ভুয়া’
Next post আমরা ইরানকে ধ্বংস করে দিচ্ছি : ট্রাম্প
Close