বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় আপনাদের সমর্থন পেলে আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে যতটা কঠোর হওয়া যায় বিএনপি সরকার ইনশাআল্লাহ ততটাই কঠোর হবে। দেশে পুনরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। দেশবাসীর কাছে এটি আমার অঙ্গীকার; বিএনপির অঙ্গীকার।
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।
ভাষণটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের কাছে রাষ্ট্র এবং সরকারকে দায়বদ্ধ রাখার কোনো বিকল্প নেই। আপনাদের কাছে আমার অঙ্গীকারের কারণ আপনারাই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। ফ্যাসিবাদ আমলে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি তথাকথিত আমি ডামি নির্বাচনে আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলাম ৭ জানুয়ারি সারাদিন পরিবারকে সময় দেবেন। বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন এবার দেশবাসীর প্রতি আমার আহ্বান, আপনাদের প্রতি আমার বিনীত আবেদন ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীষে ভোট দিন। তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব নিন। ১৩ তারিখ থেকে আপনাদের নির্বাচিত এমপিরা আপনাদের দায়িত্ব নেবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আপনাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে কি না সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমি নেব ইনশাআল্লাহ। ১২ ফেব্রুয়ারি যদি আপনাদের সমর্থন পায় তাহলে রাষ্ট্রীয় পরিচালনায় বিএনপির মূল মন্ত্র থাকবে মহানবীর মহান আদর্শ ন্যায় করার। ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীষের ভোট দিন।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, মরহুমা বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাফল্য যাত্রা অব্যাহত রাখতে আমি আমার দলের নেতাকর্মীদেরকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘদিন থেকে হাতে কলমে প্রস্তুতি নিয়েছি।
তিনি বলেন, ২০০১ সালে যখন আপনাদের সমর্থনে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছিল আমি তখন সরকারের অংশ হইনি। তবে বিএনপির একজন কর্মী হিসাবে সারাদেশে প্রতিটি জেলা উপজেলা গ্রাম নগর বন্দরে ঘুরেছি। আপনাদের স্থানীয় সমস্যাগুলো সম্ভাবনাগুলো জানা, বোঝার চেষ্টা করেছি। পরিস্থিতির কারণে বিদেশে থাকতে বাধ্য হলেও হৃদয় মন সত্তা জুড়েছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জনগণ। আমি তাই বিদেশে অবস্থানকালীন সময়েও দেশের প্রতিটি এলাকায় আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করি। বিদেশ থেকে দেশে ফিরেও আমি আবারো এই স্বল্প সময় যতটুকু সম্ভব আপনাদের কাছে ছুটে গিয়েছি। আমি আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি। বিএনপির প্রতি আপনাদের আবেগ এবং ভালোবাসা উপলব্ধি করেছি।
তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির প্রতি আবারো আপনাদের ভালোবাসা প্রকাশের দিন। আপনাদের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে সেই সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল ত্রুটি হয়েছে। সেজন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে অবলম্বন করে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে আবারো আমি আপনাদের সমর্থন চাই। আমি দেশ এবং জনগণের জন্য আপনার এবং আপনার পরিবারের সদস্যের জন্য যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষে আপনাদের সমর্থন এবং আপনাদের ভোট চাই।
গণতান্ত্রিক উত্তোরণের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে উপনীত বাংলাদেশ মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু পতিত পরাজিত বিতাড়িত চক্র জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্রের মালিকানা কেড়ে নিয়েছিল। কেড়ে নিয়েছিল জনগণের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার। অবশেষে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় হাজারো প্রাণের বিনিময়ে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া এক মাহেন্দ্রক্ষণ আমাদের সামনে উপস্থিত।
তারেক রহমান বলেন, দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি সেক্টর এবং প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছি। বর্তমান প্রজন্মের সামাজিক অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অধিকার পুনর্বহাল এবং ভবিষ্যৎ প্রজম্যের জন্য একটি নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিএনপির সব পরিকল্পনা বিশেষ করে দেশের সব তরুণ-তরুণী বেকার জনগোষ্ঠী এবং নারীদের জন্য দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই এবার বিএনপির প্রথম এবং প্রধান অগ্রধিকার। আমি ইশতেহারে উল্লেখিত কয়েকটি বিষয় খুব সংক্ষিপ্তভাবে আজ আবারও দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে চাই।
তিনি বলেন, বেকার সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ব্যাংক, বিমা, পুঁজিবাজারসহ দেশের অর্থনৈতিক খাতের সার্বিক সংস্কার, অঞ্চল ভিত্তিক অর্থনীতিকে চাঙা করা এবং শিল্প ও বাণিজ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমার্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। এভাবে পর্যায়ক্রমিকভাবে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কয়েকটি সেক্টরকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির উপায় এবং কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসাবে দেশব্যাপী কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা হবে। কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় বিনামূল্যে স্কিলস ডেভেলপমেন্ট, ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যাতে করে বেকার যুবক কিংবা তরুণ-তরুণীরা দেশে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির জন্য প্রস্তুত হয়ে সরাসরি কর্মক্ষেত্রে কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারেন। প্রতিটি অঞ্চলভিত্তিক স্থানীয়ভাবে বিখ্যাত এবং ঐতিহ্যবাহী পণ্যের উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
স্থানীয় কুটিরশিল্প ও এসএমই খাত বিকশিত করার জন্য সহজ এবং স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। বৈষয়ক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যে বেসরকারি শিল্প সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সহায়ক উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আউটসোর্সিং, ডাটা প্রসেসিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সেমিকন্ডাক্টর সহ আইটি সেক্টরে নতুন শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব সেক্টরে প্রতিবছর সরাসরি ২ লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি ও কন্টেইন ক্রিয়েশন এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আরো ৮ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে দেশে বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৯ লাখ রয়েছেন স্নাতক ডিগ্রিধারী উচ্চ শিক্ষিত বেকার। এদের মধ্যে প্রায় ২২ শতাংশ তরুণ তরুণী কোন প্রকার শিক্ষা চাকরি ও প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত নয়। এই বিপুল সংখ্যক বেবকারের অধিকাংশই ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায় বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে বিএনপি শিক্ষিত তরুণ তরুণীদের জন্য ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর কিংবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা মনে করি এই বেকার ভাতা হয়তো একজন শিক্ষিত বেকারকে সে উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জনেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে। প্রিয় দেশবাসী, দেশের অর্ধেক জনশক্তির বেশি নারীশক্তিকে রাষ্ট্র, রাজনীতি, অর্থনীতির মূলধারার বাইরে রেখে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। দেশে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপিকে যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেন তাহলে আমরা এবার প্রথমবারের মতো দেশে প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিবারগুলোর নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। তবে প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা প্রান্তিক এবং নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ডে প্রতিমাসে আড়াই হাজার টাকা কিংবা সমমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতার পরিমাণ প্রয়োজন এবং বাস্তবতার নিরিখে পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। ফ্যামিলি কার্ডটিকে আমরা নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে মনে করি।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষার উন্নয়নে দেশের স্নাতকত্তর পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ চালু করেছিলেন। আপনারা বিএনপিকে আবারো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিলে নারীদের বিনা বেতন শিক্ষা গ্রহণের সুবিধা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নীতি নির্ধারণে নারীর অংশগ্রহণ ও ভূমিকা বাড়ানো হবে। নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক খাতে নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত নারী কল্যাণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার পর কল্পনা আমাদের রয়েছে। স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা নিশ্চিত করতে শুধুমাত্র নারীদের জন্য বিশেষায়িত ইলেকট্রিক পরিবহন চালু করা হবে। কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কর্মস্থলে ডে কেয়ার ও ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন করা হবে। এছাড়া বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে হাইজিনিক বাথরুম নির্মাণের পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। আমাদের সমাজে নারীরা নানাভাবে হয়রানী এবং সহিংসতার শিকার হন। বর্তমান সময় নারীর প্রতি সাইবার বুলিং উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। বুলিং সহ নারীর প্রতি যেকোন ধরনের স্বয়ংসতা বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পরিকল্পনা এবং সিদ্ধান্ত আমাদের রয়েছে।
নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত অবশ্যই করা হবে জানিয়ে বিএনপির এই নীতির নির্ধারক বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতির নানা খাত বাড়লেও দেশের অর্থনীতি এখনো মূলত কৃষি নির্ভর। বিএনপি বিশ্বাস করে কৃষকের স্বার্থ রক্ষার অর্থ দেশের স্বার্থ রক্ষা। এজন্যই আমরা বলি বাঁচলে কৃষক বাঁচবে দেশ। এই উপলব্ধি থেকেই আমরা কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কৃষকদের জন্য ফার্মাস কার্ড ইস্যুর উদ্যোগ নিয়েছি। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষক একদিকে কৃষি সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য পাবেন। অপরদিকে সরকারের কাছ থেকে পাবেন আর্থিক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা। দেশে কোটি কোটি কৃষক শ্রমিক রয়েছেন। অধিকাংশই কর্মক্ষম। কর্মক্ষম কৃষকদের জন্য একদিকে যেরকম কর্মসংস্থান প্রয়োজন অপরদিকে প্রয়োজন তাদের শ্রমের ন্যাজ্য মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ। আমরা মনে করি কর্মক্ষময়ী জনশক্তির শ্রমই হতে পারে বাংলাদেশকে পুনরায় স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশে রূপান্তরের চাবিকাঠি। এ কারণেই আমরা বলি করব কাজ। গর্ব দেশ সবার আগে বাংলাদেশ। তাই আমরা আমাদের কর্মপরিকল্পনায় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি।
তিনি বলেন, আমাদের জনসংখ্যার একটি বিপুল অংশ স্কুল কলেজ মাদ্রাসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জ্ঞান বিজ্ঞান আর তথ্যপ্রযুক্তির এই বিকাশমান বিশ্বে বাংলাদেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী এইসব তরুণ তরুণীরাই বদলে দেবে আগামীর বাংলাদেশ। তবে একাডেমিক শিক্ষার স্তরের সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছার এই যাত্রাপথে লক্ষ শিক্ষার্থী কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে ড্রপআউট হয়ে যান। নানা বাস্তবতায় ড্রপআউট হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকায় বিশ্বের যে কয়েকটি দেশ শীর্ষ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ তার অন্যতম। একজন শিক্ষার্থী শিক্ষাস্তরের যেকোনো পর্যায়ে ড্রপআউট হওয়ার পর তাদেরকে যেন বেকার জীবন কাটাতে না হয় সেজন্য হাই স্কুল পর্যায় থেকে আমরা শিক্ষা কারিকুলামে কারিগরি এবং ব্যবহারিক অর্থাৎ টেকনিক্যাল এবং ভোকেশনাল শিক্ষাকে আবশ্যকীয় করার প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছি। একইসঙ্গে দেশের জনশক্তিকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে বাংলা এবং ইংরেজির পাশাপাশি হাই স্কুল পর্যায় থেকে সিলেবাসে তৃতীয় আরেকটি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা রাখার সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করেছি। আমরা মনে করি একজন ব্যক্তির একাধিক ভাষা জ্ঞান থাকলে বিশ্বের যেকোন দেশেই কর্মসংস্থানের অভাব হবে না। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একজন শিক্ষার্থী যাতে যোগ্যতম হিসেবে এগিয়ে যেতে পারেন। সেই চিন্তাকে সামনে রেখেই আমরা শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের গবেষণা এবং সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষা কারিকুলাম পরিমার্জনের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করেছি। আমরা শিক্ষা কারিকুলাম এমনভাবে ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি নিয়েছি যাতে সব শিক্ষার্থী শিক্ষাস্তরের প্রতিটি ধাপে একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি একটি বিশেষ কারিগরি ব্যবহারিক শিক্ষার দক্ষতাও অর্জন করতে সক্ষম হন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তর হচ্ছে মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য আমরা জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার কার্যকর উদ্যোগ এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিওর। অর্থাৎ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধী উত্তম। আমরা এই নীতিতে প্রবর্তন করতে চাই। এই লক্ষ্যে আমরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা কোর্স সম্পন্ন করিয়ে সারাদেশে ১ লাখ হেলথকেয়ারের নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। নিয়োগ পাওয়া হেলথ কেয়ারারদের শতকরা ৮০ ভাগই হবেন নারী সদস্য। প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়োগ পাওয়া হেলথকেয়াররা মানুষের দৌড়গোড়ায় যাবেন এবং তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শ দেবেন। আমরা মনে করি কোন রোগ প্রতিরোধের ব্যাপারে প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক পরামর্শ পেলে অনেক রোগী শুরুতেই নিরাময় করা সম্ভব হয়ে ওঠে।
বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান বিশ্ব আরো এক ধাপ এগিয়ে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, চাইলেও কারো পক্ষে এর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব নয়। রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি সবকিছুই এখন তথ্যপ্রযুক্তিকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। সুতরাং তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্ব শাসন করার মতো মেধাযোগ্যতা জ্ঞানে বিজ্ঞানে আমাদের তরুণ সমাজ সমৃদ্ধ না হতে পারলে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় নীতি কি হবে? বিএনপি এরইমধ্যে সেইসব কার্যক্রম চূড়ান্ত করেছে। আইসিটি কে দেশের অন্যতম থ্রাস সেক্টর হিসেবে চিহ্নিত করে ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিংসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতা করার নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। প্রিয় দেশবাসী আপনারা জানেন সব বাধা উপেক্ষা করে ২০২৩ সালে ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা উপস্থাপন করেছিল। এরপর প্রতিটি দফা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে সেই বিষয়ে দেশে প্রবাসে বসবাসরত সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মাসের পর মাস আলোচনা করে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রক্রিয়া এবং পদ্ধতিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে ব্যয়নির্বাহের খাতও যথাযথভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। কারণ আমরা মনে করি দেশ এবং জনগণের স্বার্থে কোন শুভ উদ্যোগ নিলে সমস্যা হওয়ার কোনো কারণ নেই। বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রের টাকা দিয়েই বিনামূল্যে নারী শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
ফ্যাসিবাদের শাসন আমলে প্রতিবছর দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করে দেওয়া হতো মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, এভাবে দুর্নীতি এবং টাকা পাচার আর অপচয় রোধ করা গেলে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মাস কার্ড কিংবা বেকার ভাতা দেওয়ার মতো ইতিবাচক উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের জন্য অর্থের সংকলন অসম্ভব নয়। শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন। জনস্বার্থে প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনৈতিক সদিচ্ছা বিএনপির রয়েছে।
More Stories
র্যাব-ডিজিএফআই বিলুপ্ত চাইলেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই) এর বিরুদ্ধে গুম-খুনের মতো অপরাধের অভিযোগ...
রয়টার্সের প্রতিবেদন: বিশ্বের প্রথম জেন-জি প্রভাবিত নির্বাচন বাংলাদেশে
বাংলাদেশে আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। একে বিশ্বের প্রথম ‘জেন-জি প্রভাবিত নির্বাচন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে...
ভোট কেন্দ্র দখলকারীরা বাড়ি থেকে দোয়া নিয়ে বের হবেন: হাসনাত আব্দুল্লাহ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, এই নির্বাচন স্বৈরতন্ত্র থেকে মুক্তির নির্বাচন। আমরা শুধু শেখ হাসিনার...
জামায়াত আমির: সরকার গঠন করলে প্রথমদিন ফজর পড়েই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করব
মানবিক ও উন্নত দেশ গড়ার জন্য দল-মত-নির্বিশেষে সবার মান-ইজ্জত ও অধিকারের সুরক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা....
নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা কেউই চিরস্থায়ী নই। কিন্তু নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা প্রয়োজন। তারা যেন জানে...
ওসমান হাদির বোন পরিচয়ে নাহিদের পক্ষে ভোট চাওয়া নারী ‘হাদির পরিবারের কেউ নন’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-১১ আসনে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের অন্যতম শহীদ ওসমান বিন...
