জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লব ছিল একটি গণবিদ্রোহ, যার লক্ষ্য ছিল পুরোনো বন্দোবস্ত ভেঙে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু পুরোনো ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা আবারও পূর্বের দুর্নীতিগ্রস্ত ও বেইনসাফি বৈষম্যমূলক কাঠামো ফিরিয়ে আনতে পূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া নির্বাচনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে খুনি হাসিনা গুম, হত্যা, বিনা বিচারে কারাবন্দি, হামলা, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা করার ক্ষেত্রে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছে। এতে আওয়ামী লীগ ও তার ছাত্রলীগসহ সব অঙ্গসংগঠন, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই-এর মতো সব সরকারি বাহিনী ও সংস্থাকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগিয়েছে। তার এই অপকর্মে ব্যবহৃত হয়েছে জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান।
“২৪-এর গণঅভ্যুত্থান বা জুলাই বিপ্লব সম্পন্ন হওয়ার পরে এর সবগুলোই ভেঙে পড়েছে। এতে নেতৃত্ব প্রদানকারী হোমড়া-চোমড়াদের কিছু লোক পালিয়েছে, কিছু বিচারের আওতায় এসেছে, অনেককে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। বহু সামরিক-বেসামরিক আমলা ও বিচারক এখনো কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন। জুডিশিয়ারি, সিভিল সার্ভিস ও পুলিশ বিভাগের শীর্ষ নেতৃত্ব ভেঙে পড়লেও ডিফেন্স সার্ভিস এখনও অটুট রয়েছে। তবে হাজার হাজার খুনি, লুটেরা ও অপরাধীর সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া, সেখান থেকে নিরাপদে দেশান্তরিত হওয়া, কর্মস্থল থেকে কিছু জেনারেলের পালিয়ে যাওয়া, অবসরপ্রাপ্তদের বৈরী রাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া, রিটায়ার্ড কিছু অফিসারের ব্যক্তিগত তথ্য জনসম্মুখে ফাঁস করে তাদের জব্দ করার সেনা গোয়েন্দাদের চেষ্টা জনসমাজে সশস্ত্র বাহিনীর ব্যাপক অমর্যাদা ঘটিয়েছে।”
তিনি বলেন, “খুনি হাসিনাকে উৎখাত করার পর এই সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতা দিয়ে সারাদেশে সশস্ত্র বাহিনীকে নামানো হয়েছে। কিন্তু সুপিরিয়র কমান্ডের অনাগ্রহের কারণে তারা কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু হলেও অপরাধীদের শনাক্ত করা, অস্ত্র উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের মতো কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি। গুম বিষয়ক কমিশন ১,৮৫০টির বেশি অভিযোগ নিয়ে কাজ করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা তথ্য ও আলামত নষ্ট করে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এরা অসহযোগিতা করেই চলেছে। আমাদের লড়াই হবে সেই ‘নিপীড়নের ব্যবস্থা’ ও ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ সমূলে উৎপাটন করা এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সব প্রবণতা সমাজ থেকে মুছে ফেলা।”
ব্যাংক ও উন্নয়ন প্রকল্প লোপাটের অর্থ উদ্ধার ও বিচার করা হবে জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক বলেন, “বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্র অনুযায়ী, হাসিনা ও তার মদদপুষ্ট আওয়ামী ব্যবসায়ী ও আমলারা এই অর্থ বিদেশে সরিয়ে নিয়েছে— যা দেশের অর্থনীতির জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে এনেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার লুটপাটকৃত এই বিশাল অঙ্কের অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালানোর কথা বললেও তাদের অবহেলা ও অজ্ঞতার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো সাফল্য অর্জিত হয়নি। এর সঙ্গে যুক্ত ফ্যাসিবাদী যুগের সুবিধাভোগী কিছু শীর্ষ আমলা ও বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ঘাতমূলক কাজ করায় এই বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ পুনরুদ্ধার বিঘ্নিত হয়েছে।”
“দেশবাসী যদি আমাদের সরকার গঠনের দায়িত্ব দেয়, তবে ফ্যাসিস্ট হাসিনা আমলে লুটপাট ও পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। লুটপাট ও অর্থপাচারের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে না। খুনি হাসিনার দোসর ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, তাদের সুবিধাভোগী আমলা ও আত্মীয়-স্বজনদের আইন ও বিচারের আওতায় আনা হবে।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিদেশে পাচারকৃত এদের যে অর্থ ইতোমধ্যে শনাক্ত হয়েছে তা বাংলাদেশের কর বিভাগের কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করে জরিমানাসহ ট্যাক্স বসিয়ে দেশে থাকা তাদের সমুদয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। একই সঙ্গে চিহ্নিত লুটপাটকারীদের গণশত্রু ঘোষণা করে এদের সম্পদও বাজেয়াপ্ত করে একটি ‘পাবলিক ট্রাস্ট’-এর মালিকানায় নিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পেশাজীবীদের নিয়োগ দিয়ে দক্ষ ও স্বচ্ছ ম্যানেজমেন্ট কাঠামোর মাধ্যমে নবগঠিত এই সংস্থাটি পরিচালনা করা হবে। আমাদের লক্ষ্য খুবই স্পষ্ট— ঘুষ, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য বিলোপের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।”
হাসিনার আমলে বাংলাদেশ একটি নতজানু পররাষ্ট্রনীতির মধ্যে আবদ্ধ ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, “দেশের কূটনৈতিক কার্যক্রম কার্যত ইন্ডিয়াকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতো, ফলে স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট দুঃশাসন কায়েম করা ও জারি রাখার সব পরিকল্পনা, তা বাস্তবায়ন ও পরিচালিত হতো দিল্লি থেকে। বাংলাদেশের সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে ফেলা, শাসন ব্যবস্থাকে গণবিরোধী করে তোলা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অকেজো করে দেওয়ার সব আয়োজন করা হয়েছে ইন্ডিয়ার ইচ্ছা অনুযায়ী।”
“বিএসএফ শত শত বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করলেও খুনি হাসিনার সরকার চুপ করে থেকেছে। ফ্যাসিবাদী যুগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট সচিবগণ এবং বিজিবির মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অফিসাররা ইন্ডিয়ার এই অসভ্য মানবতাবিরোধী আচরণের পক্ষে সাফাই গেয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। পৃথিবীর শত্রুভাবাপন্ন ও যুদ্ধরত দেশের সীমান্তেও এভাবে বেসামরিক নাগরিকদের গুলি করে খুন করার নজির নেই।”
তিনি বলেন, “সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়— এই স্লোগান আওড়ালেও বাস্তবে খুনি হাসিনার পররাষ্ট্রনীতি ছিল ইন্ডিয়ার নির্দেশ পালন করা। সে কারণে পাকিস্তানের প্রতি সর্বক্ষেত্রে বৈরী আচরণ করা হতো। বাস্তবে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক পরিসরে ইন্ডিয়ার পুতুল রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল তারা। তখন ঢাকার এই ফ্যাসিস্ট শাসকরা মনে করত দিল্লি তাদের ঔপনিবেশিক শাসনের কেন্দ্র। সে সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যাতে আমাদের জাতীয় স্বার্থ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
“জনগণ যদি এনসিপির ওপর আস্থা রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তবে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য ঘাটতি এবং কারো ওপর অতি নির্ভরশীলতা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে এনে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করা হবে। আমরা অগণতান্ত্রিক শাসকদের নতজানু নীতিকাঠামো ভেঙে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আত্মমর্যাদাপূর্ণ ও স্বকীয় পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করব। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক বাড়াতে সার্ক পুনরুজ্জীবিত করা হবে এবং আসিয়ানে যোগ দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাব।”
তিনি বলেন, “প্রবাসে থাকা নাগরিকদের সমস্যা সমাধান ও দ্রুত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে পৃথিবীর সব প্রান্তে বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করা এবং কূটনীতিকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। লক্ষ্য হবে, পৃথিবীর সম্ভাবনাময় সব দেশে নামমাত্র খরচে জনবল রপ্তানি করা এবং তারা যাতে কোথাও কোনোভাবে হেনস্তার শিকার না হয়, সেই সুরক্ষা দেওয়া। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ন্যায্যতা ও সহযোগিতা হবে আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি।”
হাসিনা তার শাসনামলে সশস্ত্র বাহিনীকে রাষ্ট্রের বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে ব্যবহার না করে দলীয় স্বার্থে নিজ দেশের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে বলে জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “এর ফলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী কার্যত দুর্বল ও অকার্যকর হয়ে পড়ে। যখন আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেট তৈরির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমরা এখনো তৃতীয় প্রজন্মের সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছি। বর্তমান কাঠামোতে ডিফেন্স বাজেটের প্রায় ৭০ শতাংশই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যয় হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য একটি অকার্যকর ও অস্থিতিশীল ব্যবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতকে কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী করতে হলে এই কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করা জরুরি। আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে পুনর্গঠন করব। আমাদের লক্ষ্য হবে বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো নয়; বরং গুণগত মান বৃদ্ধি করা। পুরো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও হাই-টেক বাহিনীতে রূপান্তর করা হবে। একই সঙ্গে দেশের সব ১৮ ঊর্ধ্ব সক্ষম তরুণ-তরুণীর জন্য বাধ্যতামূলক মিলিটারি ট্রেনিং চালু করা হবে, এতে দেশব্যাপী জনভিত্তি সম্পন্ন এক গণপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। ফলে আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের বিনিয়োগকৃত অর্থের অপচয় কমবে।”
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, “একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যায্য মূল্যে ভোগ্যপণ্য নিশ্চিত করা। লাগামহীন দ্রব্যমূল্যে মানুষ যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন সরকারের ভূমিকা হবে সক্রিয়ভাবে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নিত্যপণ্যের মূল্য সবসময়ই সর্বাধিক। এর কারণ, এদেশে ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও আমলাদের একটি দুর্নীতিগ্রস্ত চক্র বাজার নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে প্রচুর অর্থ নিজেদের পকেটস্থ করে। আমরা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও আমলাদের সিন্ডিকেট ভাঙা হবে। দুষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে আইন করে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। কৃত্রিমভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ, কারসাজি ও অবৈধ মজুতদারি প্রমাণিত হলে অপরাধীরা কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবে।”
“বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী কার্যত একটি দলীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। তাদের অত্যাচার ও জুলুমের কারণে মানুষ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মতো পুলিশকেও ‘পুলিশ লীগ’ নামে ডাকতে শুরু করেছিল। দেশে এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া কঠিন, যারা তখনকার পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও পুলিশ ব্যাপক নৃশংসতা করেছে। আমরা সরকার গঠন করলে, জুলাই বিপ্লবের সময় এবং এর পূর্বাপর ১৫ বছর ধরে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য হত্যা, নির্যাতন, জুলুম, মিথ্যা মামলা, দস্যুবৃত্তি করে অর্থ লোপাট ও ঘুষ দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল— তাদের প্রত্যেককেই বিচারের আওতায় আনা হবে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বিচার চাওয়া আজ দীর্ঘ, ক্লান্তিকর এবং অনেক সময় হতাশাজনক এক যাত্রা। একজন মজলুম মানুষ যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চান, তখন তিনি শুধু একজন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নয়— একটি জটিল ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন। থানায় মামলা নিতে অনীহা, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, আদালতে তারিখের পর তারিখ পড়া এবং ব্যাপক অর্থ ব্যয়ের চাপ— সব মিলিয়ে বিচার এ দেশে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে।”
More Stories
নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা কেউই চিরস্থায়ী নই। কিন্তু নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা প্রয়োজন। তারা যেন জানে...
ওসমান হাদির বোন পরিচয়ে নাহিদের পক্ষে ভোট চাওয়া নারী ‘হাদির পরিবারের কেউ নন’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-১১ আসনে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের অন্যতম শহীদ ওসমান বিন...
৫৯ ঋণখেলাপি-ব্যাংক ডাকাতদের বগলের নিচে রেখে করবেন দুর্নীতি দমন: বিএনপিকে জামায়াত আমিরের প্রশ্ন
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। ভোটের প্রচারণায় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা একে অপরকে নানাভাবে সমালোচনা করছেন। আজ বাংলাদেশ...
ক্ষমতায় গেলে একাত্তর-চব্বিশের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করবে বিএনপি: তারেক রহমান
ক্ষমতায় গেলে একাত্তর-চব্বিশের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করবে বিএনপি নির্বাচনি প্রচারণায় একই মঞ্চে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ঢাকা-১৪ আসনের...
একুশে পদক পাচ্ছেন ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ১ প্রতিষ্ঠান
বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৬ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে...
স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতকে সমর্থন করা যায় না : মির্জা ফখরুল
স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করতে পারি না বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির মহাসচিব মির্জা...
