যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ করে, তবে যুদ্ধের নিয়ম অনুযায়ী ডেনিশ সেনারা আগে গুলি চালাবে এবং পরে জিজ্ঞাসাবাদসহ অন্য আলাপ করবে। বুধবার ডেনিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। স্থানীয় পত্রিকা বার্লিংস্কেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেনিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, কোনো বিদেশি শক্তি যদি গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ বা দখলের চেষ্টা করে, তবে সেনারা সরাসরি কোনো নির্দেশের অপেক্ষা না করেই তৎক্ষণাৎ গুলি চালাতে বা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে। গত বুধবার ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৯৫২ সালের একটি নিয়মের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। যেখানে নির্দেশ দেওয়া আছে, আক্রমণকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো আদেশের অপেক্ষা না করেই ‘অবিলম্বে’ পাল্টা আক্রমণ করতে হবে।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার অভিপ্রায় পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য মনে করেন এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এটি দখলের কথা জানিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে রুশ ও চীনা জাহাজে সয়লাব হয়ে আছে এবং ডেনমার্ক একা এর নিরাপত্তা দিতে সক্ষম নয়। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং তারা জোর দিয়ে বলেছে, এই দ্বীপ ‘বিক্রির জন্য নয়’।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডরিক নিলসেন ট্রাম্পের এই ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপের আলোচনাকে ‘অসম্মানজনক’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ডেনমার্ক স্পষ্ট করে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড কোনোভাবেই বিক্রির জন্য নয়। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ড সরকার এবং বৃহত্তর ন্যাটো জোটও হতবাক হয়েছে। গ্রিনল্যান্ডে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার মোকাবিলায় ইউরোপীয় মিত্ররা জরুরি আলোচনা শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কোনো পদক্ষেপ সম্ভবত ন্যাটো জোটের সমাপ্তি ঘটাবে। আর্কটিক দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের দখল করে নেওয়ার চেষ্টার বিপরীতে ইউরোপের প্রতিক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত, সেই আলোচনা প্রসঙ্গে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বরো বলেন, ‘আমরা পদক্ষেপ নিতে চাই, তবে তা আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গেই করতে চাই।’
গ্রিনল্যান্ডবাসীকে ‘১ লাখ ডলার ঘুষ’ দেওয়ার চিন্তা
ডেনমার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্ত হতে গ্রিনল্যান্ডের প্রত্যেক বাসিন্দাকে মোটা অঙ্কের টাকা সাধার কথা ভাবছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আর্কটিকের এই ডেনিশ অঞ্চলটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে ডেনমার্কের সৈন্যরা ঊর্ধ্বতন কমান্ডারদের নির্দেশের অপেক্ষা না করেই যুদ্ধে নেমে পড়বে– যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ডেনমার্কের এমন হুঁশিয়ারির পরপরই ট্রাম্প প্রশাসনের এমন ভাবনার খবর পাওয়া গেল। হোয়াইট হাউসের আলাপ-আলোচনা সম্বন্ধে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের প্রলুব্ধ করতে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ ডলার পর্যন্ত ‘ঘুষ দেওয়ার’ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন।
More Stories
নেপালকে বাংলাদেশ হতে দেব না: সুশীলা কারকি
নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি বলেছেন, নেপালকে কোনোভাবেই বাংলাদেশের পথে হাঁটতে দেওয়া হবে না। সম্প্রতি কাঠমান্ডুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে...
মাদুরোর পরিবর্তে নেতানিয়াহুকে অপহরণ করা উচিত: খাজা আসিফ
স্বল্প সময়ের মধ্যে দুই দফা টেলিফোন আলাপের পর এবার সৌদি আরবের জেদ্দায় বৈঠক করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ...
খালেদা জিয়া ছিলেন দূরদর্শী রাজনীতিক: শাহবাজ শরিফ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।...
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা নিয়ে নিউয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি’র বিবৃতি
শামসুল আরিফীন বাবলু, প্রবাস বাংলা, লস এঞ্জেলেস: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।...
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলভান্ডারের ভবিষ্যৎ কী?
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলভান্ডারের দেশ ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার...
তারেক রহমানের স্বদেশে ফেরা নিয়ে যা বলছে বিশ্ব গণমাধ্যম
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫...
