মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি স্বপ্নের প্রকল্প হচ্ছে ‘গোল্ডেন ডোম’। এটি হবে একটি আধুনিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা পুরো যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র থেকে রক্ষা করবে। তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হতে পারে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি – যা বাংলাদেশি টাকায় দাঁড়ায় প্রায় ৫৫ লাখ কোটি টাকা!
সোমবার (১৯ মে) সংবাদমাধ্যম সিএনএন প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগন (মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর) ইতোমধ্যে ট্রাম্পের কাছে তিনটি বাজেট বিকল্প তুলে ধরেছে- ছোট, মাঝারি এবং বড়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্প এদের মধ্যে একটি বেছে নেবেন। এই নির্বাচনের ওপর নির্ভর করবে, প্রকল্পের অর্থায়ন, বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
এদিকে ২০২৬ সালের বাজেটে ‘গোল্ডেন ডোম’-এর জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। তবে কংগ্রেসের বাজেট অফিস বলছে, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে খরচ হতে পারে ২০ বছরে ৫০০ বিলিয়নেরও বেশি।
এই প্রকল্প একা সরকারের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এজন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দরকার হবে। এলন মাস্কের কোম্পানি SpaceX ছাড়াও Anduril ও Palantir নামে আরও দুটি প্রযুক্তি কোম্পানি ইতোমধ্যে চুক্তির জন্য লবিং শুরু করেছে। তারা প্রতিরক্ষা সচিবকে প্রস্তাবও দিয়েছে।
এমনকি, এই প্রকল্পে নজর রাখার জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে একজন ‘গোল্ডেন ডোম জার’- যিনি পুরো ব্যবস্থাটি তদারকি করবেন। এই পদে জেনারেল মাইকেল গেটলাইনকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’-এর মতো একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুটি প্রকল্প একেবারে ভিন্ন। আয়রন ডোম ছোট এলাকা সুরক্ষায় ব্যবহৃত হয়, আর ট্রাম্পের গোল্ডেন ডোম মহাকাশ থেকে পুরো যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করবে- যা প্রযুক্তি ও ব্যয়ের দিক থেকে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।
যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের কর্মকর্তারা বলছেন, এখনো পুরো প্রকল্পটি পরিকল্পনা ও নকশা পর্যায়ে রয়েছে। কিছু প্রাথমিক অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের জন্য সময়, গবেষণা ও ব্যাপক সমন্বয়ের দরকার।
প্রকল্পটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক চলছে। অনেকে বলছেন, এলন মাস্কের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতার কারণে SpaceX বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। আবার ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা অনুসারে প্রকল্পের পরিকল্পনা মার্চে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা জমা পড়ে প্রায় এক মাস পরে।
‘গোল্ডেন ডোম’ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোর একটি। এটি সত্যি বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা এখনো প্রশ্নের মুখে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এটি শুরু করার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
More Stories
‘ভিসা বন্ড প্রোগ্রাম’ কীভাবে কাজ করে, জানাল যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস
বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড (ভিসায় জামানত) কার্যকর হয়েছে গত ২১ জানুয়ারি। দেশটিতে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসাশর্ত লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমাতে...
নোবেল পুরস্কার পাইনি, তাই শুধু শান্তি নিয়ে ভাবতে বাধ্য নই: ট্রাম্প
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার হতাশার সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে যুক্ত করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার...
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য সব ধরনের মার্কিন ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত
ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করছে বলে বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র...
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে : বার্নিকাট
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু নির্যাতন সহ্য করলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কখনো...
মাদুরোর আগে আর কোন কোন সরকারপ্রধানকে বন্দি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র?
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে বন্দি করেছে যুক্তরাষ্ট্র—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।...
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প–মামদানি বৈঠকে প্রশংসা আর সৌহার্দ্যের বার্তা
ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। দুই...
