যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘নেতৃত্ব দেওয়ার অযোগ্য’ বলে ঘোষণা করেছে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় পরিষদ। তারা বলেছে, তিনি কথা ও কাজে বিপজ্জনক। তিনি দেশের চেয়ে নিজেকে প্রাধান্য দেন।
রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা এক নিবন্ধে নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় পরিষদ এমন কথা বলেছে।
আগামী সপ্তাহে রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনে ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় পরিষদ উল্লেখ করেছে, আট বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন।
পরিষদ বলেছে, একসময়ের একটি মহান রাজনৈতিক দল (রিপাবলিকান পার্টি) এখন এক ব্যক্তির (ট্রাম্প) স্বার্থে কাজ করছে। তিনি এমন এক ব্যক্তি, যিনি স্পষ্টত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য অযোগ্য। যেসব বিষয় এই দেশকে মহান করে তুলেছে, তার অনেক কিছুর সরাসরি বিরোধী তাঁর মূল্যবোধ, মেজাজমর্জি, ধারণা ও ভাষা।
ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বাছাইয়ের বিষয়কে একটি হতাশা করার মতো সিদ্ধান্ত বলে মনে করে পরিষদ। তারা বলেছে, দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বলে আসছে, তারা দেশ পরিচালনা নিয়ে অসন্তুষ্ট। করোনা মহামারি-পরবর্তী সময়ের লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি, উচ্চ সুদের হার, সামাজিক বিভাজন ও রাজনৈতিক স্থবিরতা অনেক ভোটারকে আরও হতাশ করে তুলেছে।
পরিষদ বলেছে, রিপাবলিকান পার্টি একসময় এ ধরনের সমস্যার সমাধানে নির্বাচনী ক্ষমতাকে কাজে লাগাত। দেশ নিয়ে দলটির দৃষ্টিভঙ্গি স্বাধীনতা, ত্যাগ, ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও সবার কল্যাণের মতো মূল্যবোধের মধ্যে নিহিত ছিল। এ ক্ষেত্রে জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ, জন ম্যাককেইন, মিট রমনির নাম উল্লেখ করেছে পরিষদ। বলেছে, এসব মূল্যবোধ সম্পর্কে দলটির ধারণা, তার দীর্ঘস্থায়ী রক্ষণশীল নীতি এজেন্ডায় প্রতিফলিত হয়েছিল। আজ অনেক রিপাবলিকান অভিবাসন, বাণিজ্য ও কর বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে চিন্তিত নন। কিন্তু এই নির্বাচনের ইস্যু নীতিগত মতপার্থক্য নিয়ে নয়; বরং আরও একটি মৌলিক বিষয় নিয়ে। তা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও কমান্ডার ইন চিফের কোন গুণগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পরিষদ বলেছে, ট্রাম্প এমন চরিত্র প্রদর্শন করেছেন, যা প্রেসিডেন্টের দায়িত্বের অনুপযুক্ত। তিনি সংবিধান, আইনের শাসন ও মার্কিন জনগণের প্রতি সম্পূর্ণ অসম্মান প্রদর্শন করেছেন। দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃঢ়প্রত্যয়সূচক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর মধ্যে নেই; বরং তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতার তৃষ্ণা দ্বারা উদ্দীপিত। আর তা হলো, নিজের স্বার্থকে এগিয়ে নিতে, তাড়নাকে তুষ্ট করতে এবং যাঁরা তাঁর সঙ্গে অন্যায় করেছেন বলে তিনি মনে করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রতিশোধ নিতে সরকারি শক্তির ব্যবহার। সোজা কথায়, তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার অযোগ্য।
More Stories
‘ভিসা বন্ড প্রোগ্রাম’ কীভাবে কাজ করে, জানাল যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস
বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড (ভিসায় জামানত) কার্যকর হয়েছে গত ২১ জানুয়ারি। দেশটিতে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসাশর্ত লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমাতে...
নোবেল পুরস্কার পাইনি, তাই শুধু শান্তি নিয়ে ভাবতে বাধ্য নই: ট্রাম্প
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার হতাশার সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে যুক্ত করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার...
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য সব ধরনের মার্কিন ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত
ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করছে বলে বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র...
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে : বার্নিকাট
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু নির্যাতন সহ্য করলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কখনো...
মাদুরোর আগে আর কোন কোন সরকারপ্রধানকে বন্দি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র?
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে বন্দি করেছে যুক্তরাষ্ট্র—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।...
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প–মামদানি বৈঠকে প্রশংসা আর সৌহার্দ্যের বার্তা
ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। দুই...
