Read Time:4 Minute, 31 Second

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জো বাইডেন প্রশাসনের কাছে লেখা ৬ কংগ্রেসম্যানের চিঠির প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন ‘কংগ্রেস অব বাংলাদেশি আমেরিকান ইনকরপোরেশন।’ গত শনিবার পাঠানো এই চিঠিতে সই করেছেন ২৬৭ প্রবাসী বাংলাদেশি।

সম্প্রতি রিপাবলিকান পার্টির ৬ কংগ্রেসম্যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান। এই কংগ্রেস সদস্যরা হলেন- স্কট পেরি, ব্যারি মুর, ওয়ারেন ডেভিডসন, বব গুড, টিম বার্চেট, ও কিথ সেলফ। এই চিঠির প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশসংক্রান্ত সঠিক বিষয় তুলে ধরে চিঠি দিয়েছেন ২৬৭ প্রবাসী বাংলাদেশি।

চিঠিতে বলা হয়, কংগ্রেসম্যানদের চিঠিতে গত এক দশকে বাংলাদেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, নারী-পুরুষের সমঅধিকার, নারীর উন্নয়ন প্রগতি, ধর্মীয় সহিষ্ণুতাকে বিবেচনা না করে খুবই সংকীর্ণ আর একচোখাভাবে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংগঠনের সদস্যরা চিঠিতে মনে করিয়ে দেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীসহ বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন সময় টাকার বিনিময়ে লবিস্ট ফার্ম দিয়ে এসব অপপ্রচার চালিয়ে থাকে।

চিঠিতে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশি খ্রিস্টান কমিউনিটি প্রধানের বক্তব্য এবং বক্তব্যের নিউজের লিংক যুক্ত করে সংখ্যালঘুদের দৃষ্টিতে বাংলাদেশে তাদের অবস্থানকে তুলে ধরা হয়। তথ্য-প্রমাণে সেখানে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে সবাই সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।

পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের হয়ে শান্তি রক্ষা করতে গিয়ে বিদ্রোহীদের হাতে নিহতদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশে বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনার কারণে এত বিশাল অবদান আর আত্মত্যাগ কি অস্বীকার করবে জাতিসংঘ? জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের উজ্জ্বল অংশগ্রহণকে নিষিদ্ধ করা কোনোভাবেই নীতিনৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

১৪ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ দেশের স্বার্থের কথা না ভেবে এত বিশালসংখ্যক অসহায় উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দিয়ে জাতিসংঘ থেকে ‘মাদার অব ইউমিনিটি’ হিসেবে স্বীকৃত হন।

গণতন্ত্র নস্যাতের অভিযোগের জবাবে চিঠিতে বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াত শাসন আমল ও আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলের পরিসংখ্যান ও উন্নতির গ্রাফ তুলে ধরা হয়।

কংগ্রেসম্যানদের জবাব দেওয়া ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করা বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ব্যবসায়ী, মার্কিন সরকারি উচ্চপদে কর্মরত বাংলাদেশি এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তরুণরা।

Happy
Happy
50 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
25 %
Sleepy
Sleepy
25 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Previous post যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানি চিকিৎসকের ১৮ বছরের কারাদণ্ড
Next post যে আইন ভঙ্গ করলে প্রবাসীদের ফেরত পাঠাবে কুয়েত
Close