কানাডার ক্যালগেরির স্ক্যান্ডেনেভিয়ান সেন্টারে অংকন আর্ট স্কুলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুনর্মিলনী।

এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, চিত্রকলা প্রদর্শনী ও মনোরম সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘লক ডাউন’। অনুষ্ঠানের সিংহভাগজুড়ে আর্ট স্কুলের শিশু-কিশোররা অভিনয়, নাচ ও গানের মাধ্যমে দর্শকের বিনোদিত করে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

বায়াজিদ গালিবের লেখা নাটক লক ডাউন দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু। নাটকের চরিত্রের সবাই ক্যালগেরির বাসিন্দা। তারা বিভিন্ন রূপে তাদের অভিনয় দিয়ে করোনাভাইরাসের করুণ অবস্থা ও পরবর্তীতে এর প্রতিকারের চিত্র তুলে ধরে। শিশুদের চমৎকার সংলাপ আর অভিনয় দর্শক উপভোগ করেন।

নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন গুরু প্রসাদ। শব্দ ধারণ ও শব্দ সংযোজনে গুরু প্রসাদ, পূর্বাশা চৌধুরী। তীর্থ সান্যাল ও গুরুপ্রসাদ দেবাশীষ। পোশাক পরিকল্পনায় জেরিন তাজ, সহযোগিতায় লোপামুদ্রা সান্যাল, নন্দিনী ভৌমিক, হামিদা নাসরিন প্রমুখ। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন রূপক দত্ত এবং সহযোগী ঝুমকা দত্ত। উপস্থিত ছিলেন ক্যালগেরির জেরিন আট স্কুলের শিশু, তাদের অভিভাবক এবং ক্যালগেরির সুধীজনরা।

প্রবাসে বাঙালিরা তাদের কর্মব্যস্ত জীবনের অবসরে ফেলে আসা মাতৃভূমিকে প্রতিনিয়ত অনুভব করেন। সে অনুভব থেকেই তাদের সন্তানদের পরিচয় করিয়ে দিতে চান দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে। ক্যালগেরিতে এ কাজে যারা নিরলস, তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য একজন চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর জেরীন তাজ। এ কাজটি আরও ভালোভাবে করার জন্য তিনি ক্যালগেরিতে একটি আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার প্রেরণায় ও প্রশিক্ষণে এ স্কুলে শিশুরা তাদের পরিচিত পরিবেশের পাশাপাশি আঁকে বাংলার মাঠ, নদী, গাছপালা, কুঁড়েঘর ও মেঠোপথের ছবি। বাঙলার সৌন্দর্যকে তিনি মূর্ত করে তোলেন তাদের হাত দিয়ে। হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া শিশু কিশোরদের এই অংকন ফিরিয়ে নেয় শৈশবের সেই দিনগুলোতে।

অনুষ্ঠানের আয়োজক ও অংকন আর্ট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর জেরিন তাজ জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও নিজ দেশের কথা ভুলি কি করে। তাই তো ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের অংকনের মধ্য দিয়ে আমার বাংলার সেইরূপ খুঁজে পাওয়ার প্রয়াসে আজকের এই আয়োজন।

Previous post পোল্যান্ড-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন
Next post সিডনিতে ‌‘পড়ুয়ার আসর’র চ্যারিটি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ
Close